‘এগিয়ে বাংলা নয়, লক্ষ্য এবার ভারতের শীর্ষ!’ ক্যাবিনেট বৈঠকের আগে বোমা ফাটালেন দিলীপ ঘোষ

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়ে ব্রিগেডের মেগা মঞ্চে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি তিনি। সোমবার নবান্নে নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের আগে সাতসকালে বেলেঘাটার সরকার বাজারে চেনা মেজাজে ‘চা-চক্রে’ যোগ দিয়ে ফের একবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। তাঁর কথায় পরিষ্কার ইঙ্গিত মিলল, নতুন সরকার কেবল পরিবর্তনের নয়, বরং ‘শোধ ও বোধ’-এর নীতিতে বিশ্বাসী।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আজ প্রথম ক্যাবিনেট মিটিং। আপাতত ছোট মন্ত্রিসভা হয়েছে। আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। মোদী সরকার যে টাকা পাঠাত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা আটকে দিতেন। আমরা এবার গরিব মানুষকে সব সুযোগ-সুবিধা দেব।” তৃণমূল সরকারকে বিঁধে তিনি আরও বলেন, “বিগত সরকার ‘এগিয়ে বাংলা’র নাম করে মানুষকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। আমরা ভারতের মূলস্রোতের দিকে এগোব, বাংলাদেশের দিকে নয়। রাতারাতি সোনার বাংলা হবে না ঠিকই, কিন্তু আমরা সোনার বাংলা না গড়ে ছাড়ব না।”

বেলেঘাটার সভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে ভয়ের রাজনীতি আর তোলাবাজি শেষ হতে চলেছে। সমাজবিরোধীদের যে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, তা বন্ধ হবে। এরই মধ্যে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “তোমাদের তো জুতো পেটা করা উচিত ছিল, সেটা করা হয়নি। তোমাদের পাপে তোমরা ঘরছাড়া। যারা ১৫ বছর মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, তারা কি ১৫ দিন কষ্ট সহ্য করতে পারবে না?”

উল্লেখ্য, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বেই বিজেপি বাংলায় প্রথম বড় সাফল্যের মুখ দেখেছিল। এবার বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর তাঁর কাঁধে কোন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়, আজ ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। নবান্ন সূত্রের খবর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের রূপায়ণ—এই দুই ক্ষেত্রেই বিশেষ জোর দিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy