তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত! রাজ্যজুড়ে একাধিক পুরসভায় একযোগে ১০০-রও বেশি কাউন্সিলরের পদত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। হঠাৎ করে এত কাউন্সিলরের ইস্তফা কি তবে শাসকদলের সাংগঠনিক দুর্বলতারই প্রতিফলন? এই প্রশ্নই এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।
কী ঘটছে পুরসভাগুলিতে? সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুরসভায় দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অবশেষে দানা বেঁধেছে পদত্যাগের আকারে। দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দূরত্বের কারণেই এই গণ-ইস্তফা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। শহরের পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে নিকাশি ব্যবস্থা—পুর পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ বাড়ছে, আর তারই আঁচ এসে লেগেছে কাউন্সিলরদের ওপর।
তৃণমূলের ওপর প্রভাব:
সংগঠনের ওপর রাশ আলগা: এতদিন যে পুরসভাগুলো ছিল তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ, সেই দুর্গেই এখন ফাটল স্পষ্ট। একের পর এক কাউন্সিলরের ছেড়ে যাওয়ার ফলে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রেও বড়সড় জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিদ্রোহের বারুদ: দলীয় শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে এতদিন অনেক ক্ষোভ চেপে রাখা হলেও, এখন সেই বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: বিরোধী দলগুলি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের দাবি, মানুষের আস্থা হারানোর জেরেই এখন তৃণমূল থেকে কাউন্সিলররা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই বিষয়ে বড় কোনো প্রতিক্রিয়ার খবর মেলেনি, তবে দলের অন্দরে যে চরম অস্থিরতা চলছে, তা স্পষ্ট।
এখন দেখার বিষয়, তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব এই গণ-পদত্যাগ সামাল দিতে কী কৌশল গ্রহণ করে। পুরসভাগুলোর রাশ কি আবার শক্ত করতে পারবে শাসকদল, নাকি এই ভাঙন আগামীদিনে আরও বড় আকার নেবে? রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেই উত্তরের দিকেই।





