উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দামামা বাজতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন যে কোনো মুহূর্তে এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারে। শাসক শিবির এনডিএ’র অন্দরে প্রার্থী নিয়ে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়ে গেলেও, বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট এখনও আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেনি। তবে পর্দার আড়ালে ফোনাফুনি চলছে, এবং এবারের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২০২২ সালের পুনরাবৃত্তি না করার বিষয়ে বিরোধী শিবির একমত হয়েছে বলে খবর। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন আবারও এনডিএ বনাম ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এক শক্তি পরীক্ষার মঞ্চ হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কংগ্রেস এককভাবে প্রবীণ নেত্রী মার্গারেট আলভাকে প্রার্থী করে দেয়। এর ফলে তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি ভোটদানে বিরত থাকে, কারণ তারা আলভা বা তৎকালীন এনডিএ প্রার্থী জগদীপ ধনকড় কাউকেই সমর্থন করেনি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় বলেছিলেন, বিরোধী ঐক্য বজায় রাখতে হলে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। এর ফলস্বরূপ, মোট ৫৫ জন সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন এবং জগদীপ ধনকড় ৩৪৬ ভোটে জয়লাভ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে, এবার অতীতের ভুল এড়িয়ে সম্মিলিতভাবে এক প্রার্থীর নাম ঘোষণায় বদ্ধপরিকর ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার বিদেশ সফর থেকে ফিরলেই এনডিএ তাদের প্রার্থী নিয়ে জোর কদমে আলোচনা শুরু করবে। এনডিএ তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরই ‘ইন্ডিয়া’ জোটও সক্রিয় হবে এবং দ্রুত আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসে সর্বসম্মত প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করবে বলে জানা গেছে।
উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী প্রসঙ্গে একজন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জানান, মার্গারেট আলভাকে নিয়ে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা হলেও এবার তাঁরা গত নির্বাচনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চান না। তিনি বলেন, “আমাদের দুই কক্ষেই (লোকসভা ও রাজ্যসভা) ৪০-৬০ অনুপাতে উপস্থিতি আছে। আমরা লড়াই করব।” কংগ্রেস অন্যান্য দলের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের লক্ষ্য সকলের সম্মতিতে একজন বিরোধী প্রার্থী দাঁড় করানো। তিনি আরও যোগ করেন, সরকার আগে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করুক, তারপরই বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম জানানো হবে।
তৃণমূলের একজন নেতাও জানান, এবার তারা তাদের অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার। জোটের সদস্য নেতারা আলোচনায় রয়েছেন এবং সম্মিলিত প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে এবার কোনো ভুল হবে না। উল্লেখ্য, লোকসভায় ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সদস্য সংখ্যা ২৩৫ এবং রাজ্যসভায় ৭৮। যদিও উপরাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী জোটের জয় নিশ্চিত না হলেও, তারা একটি শক্তিশালী লড়াই দিতে চাইছে।
তবে, অ-কংগ্রেসি দলগুলি ইতিমধ্যেই কংগ্রেসকে সতর্ক করেছে যে, বড় শরিক হিসেবে যেন তারা তাদের প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে। তৃণমূল কংগ্রেসও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কংগ্রেসকে কেবল নিজেদের প্রার্থীর কথা না ভেবে অ-কংগ্রেসি মুখের কথা ভাবতে হবে। তাদের মতে, অ-কংগ্রেসি প্রার্থী হলে বিরোধী জোট দোদুল্যমান ভোটও পেতে পারে। কংগ্রেসের একজন নেতাও স্বীকার করেছেন যে, এবার ঐক্য যাতে চিড় না ধরে, তার জন্য সবরকম চেষ্টা করা হবে। সব মিলিয়ে, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে এবং রাজনৈতিক মহলে এখন শুধু প্রার্থী ঘোষণার অপেক্ষা।





