আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার পর যখন গোটা দেশ শোকস্তব্ধ এবং বিমান ভ্রমণ নিয়ে মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, তখনই এক গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এল। আকাশে ফের জারি হয়েছে নোটাম (NOTAM – Notice to Airmen)। আগামী ১৮-১৯ জুন পর্যন্ত এই নোটাম কার্যকর থাকবে, যার ফলে নির্দিষ্ট উচ্চতায় সাধারণ অসামরিক বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কেন জারি হলো এই নোটাম?
জানা গেছে, পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয় বায়ুসেনা আরও একবার বড় আকারের সামরিক মহড়া চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত এই কারণেই নোটাম জারি করা হয়েছে। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ অঞ্চলে এই নোটাম কার্যকর হবে। মহড়ার সময় যাতে কোনো অসামরিক বিমান ওই নির্দিষ্ট বায়ুক্ষেত্রে প্রবেশ না করে, তার জন্যই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের উত্তর অংশ যেখানে জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা, ঠিক তেমনই দক্ষিণ অংশ হলো স্যর অব ক্রিক, যা গুজরাটের কচ্ছের রণে অবস্থিত। সীমান্তের ঠিক ওই পারেই রয়েছে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ। এই অঞ্চলেই বায়ুসেনার মহড়া চলবে বলে জানানো হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সীমান্ত উত্তেজনা ও বায়ুসেনার তৎপরতা
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর থেকেই ভারতীয় বায়ুসেনা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সীমান্তে ঘনঘন মহড়া চালাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও দেশের সীমান্তের পশ্চিমাংশে মধ্যরাত পর্যন্ত মহড়া চলেছিল, যার জন্য নোটাম জারি করা হয়েছিল। এবার দক্ষিণ অংশেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো। দেশের প্রতিটি প্রান্তের সীমান্তকে সুরক্ষিত এবং সজাগ রাখতেই এই ধরনের মহড়া চালানো হচ্ছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে।
আহমেদাবাদের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার মধ্যেই এই সামরিক মহড়া দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করছে, তেমনি অন্যদিকে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সীমান্ত সুরক্ষার গুরুত্বকেও তুলে ধরছে। অসামরিক বিমান চলাচলে এই নিষেধাজ্ঞা যাত্রীদের মনে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করলেও, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এটি অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।