দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের আবহে হঠাৎই নাটকীয় মোড়। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝেই বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা গেল। শুক্রবারের এই দরপতন বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯.৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর দাম কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০২.৫৯ ডলারে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দামের তুলনায় এই নিম্নমুখী প্রবণতা সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
হঠাৎ কেন এই দরপতন? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের পেছনে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে তেহরানের একটি গোপন কূটনৈতিক পদক্ষেপ। জানা গেছে, ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং ইতিবাচক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। দীর্ঘদিনের পরমাণু চুক্তি ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চলমান অচলাবস্থা কাটাতে এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে আসা এই আলোচনার ইঙ্গিতের পরেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের যে আশঙ্কা থেকে তেলের দাম বাড়ছিল, তা আপাতত কিছুটা স্তিমিত।
ভবিষ্যতে কী হতে পারে? বাজার বিশেষজ্ঞরা এখনই চূড়ান্ত কোনো উপসংহারে পৌঁছাতে নারাজ। তাদের মতে, তেলের দামের এই ধারাবাহিকতা নির্ভর করবে ওয়াশিংটনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ওপর। যদি জো বাইডেন প্রশাসন ইরানের নতুন প্রস্তাবকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা সফল হয়, তবে তেলের দাম আরও কমতে পারে। তবে আলোচনার টেবিলে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে বাজার আবারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন ওয়াশিংটনের উত্তরের দিকে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক চালচিত্রই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর জ্বালানির চাপ কতটা কমবে।





