ইভিএম খুললেই কি মহাপ্রলয়? কাউন্টিং সেন্টারের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি ১৬৩ ধারা, ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় মুড়ল বাংলা!

রাত পোহালেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভাগ্য পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে বাংলার তাবড় তাবড় রাজনৈতিক হেভিওয়েটদের। ইভিএম-বন্দি জনমতই ঠিক করে দেবে আগামী পাঁচ বছর বাংলার মসনদ কার দখলে থাকবে। প্রত্যাবর্তন নাকি পরিবর্তন— এই কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা দেশ। তবে টানটান উত্তেজনার এই আবহে বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জারি হয়েছে নজিরবিহীন বিধিনিষেধ।

দুর্গসম নিরাপত্তা: তিন স্তরের কড়াকড়ি গণনাকেন্দ্রের সুরক্ষায় এবার ত্রিস্তরীয় বলয় তৈরি করেছে কমিশন। যেন কোনোভাবেই বাইরের আঁচ ভেতরে না পৌঁছাতে পারে।

  • প্রথম স্তর: একেবারে বাইরের দায়িত্বে থাকবেন কলকাতা পুলিশের লাঠিধারী বাহিনী ও সার্জেন্টরা।

  • দ্বিতীয় স্তর: এই স্তরে যৌথভাবে পাহারা দেবে কলকাতা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।

  • তৃতীয় স্তর: গণনাকেন্দ্রের মূল প্রবেশপথ বা শেষ স্তরে নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবেন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পাশাপাশি, প্রতিটি কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি থাকছে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা)। ফলে ওই এলাকায় কোনো জমায়েত, বিক্ষোভ বা বিজয় মিছিল করা যাবে না।

এজেন্টদের জন্য নয়া ডিজিটাল নিয়ম এবারের গণনায় কারচুপি রুখতে প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির কাউন্টিং এজেন্টদের পরিচয়পত্রে প্রথমবার যুক্ত করা হয়েছে QR কোড। কেন্দ্রের ভেতরে ঢোকার আগে এই কোড স্ক্যান করে তথ্য যাচাই করবেন আধিকারিকরা। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের পর আর কাউকেই ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে না। এমনকি ভেতরে মোবাইল ফোন, লাইটার বা কোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সঙ্গে রাখা যাবে কেবলমাত্র একটি সাদা কাগজ ও একটি কলম।

ফল ঘোষণাতেও নয়া ফরমান এবার চাইলেই কেউ চটজলদি ফল ঘোষণা করতে পারবেন না। প্রতি রাউন্ডের গণনা শেষে তথ্য যাবে ট্যাবুলেশন টেবিলে। সেখান থেকে রিটার্নিং অফিসার এবং কাউন্টিং অবজারভারের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের পরই সেই ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড হবে। পোস্টাল ব্যালট গণনায় সময় বেশি লাগে বলে, ইভিএমের রাউন্ড শেষ হলেও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য পোস্টাল ব্যালটের হিসেব মেলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

কড়া নজরদারিতে সিসিটিভি পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি গণনাকেন্দ্র এবং তার ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সরাসরি ওয়েবকাস্টিং না হলেও, প্রতি মুহূর্তের ফুটেজ রেকর্ড করে রাখা হবে। যাতে ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই প্রক্রিয়ার জন্য ভেতরে পানীয় জল, শৌচাগার ও খাবারের জন্য নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আগামীকাল সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে ব্যালট যুদ্ধ। বাংলার মানুষ কাকে বেছে নিলেন, তা স্পষ্ট হতে শুরু করবে দুপুরের পর থেকেই। তবে কমিশনের এই বেনজির তৎপরতা বলছে, কালকের দিনটি কেবল রাজনৈতিক দলের নয়, প্রশাসনের কাছেও এক অগ্নিপরীক্ষা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy