৪ মে, সোমবার বাংলার রাজনীতির সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত। গোটা রাজ্যের নজর এখন ইভিএম-এর দিকে। কে হাসবে শেষ হাসি? উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে জঙ্গলমহল, শিল্পাঞ্চল থেকে তিলোত্তমা— বাংলার প্রতিটি প্রান্তের ফয়সালা হবে কাল। ফলাফল যাতে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে ঘোষণা করা যায়, তার জন্য নজিরবিহীন প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে তৈরি করা হয়েছে ৪৫৯টি হাই-টেক কাউন্টিং হল।
দ্রুত ও স্বচ্ছ গণনায় মেগা ব্যবস্থা এবারের গণনা প্রক্রিয়ায় গতি আনতে এবং কোনো ধরণের বিভ্রান্তি এড়াতে কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতি রাউন্ডের ফলাফল যাতে নিভুলভাবে দ্রুত সামনে আসে, তার জন্য গণনাকেন্দ্রের ভেতরে টেবিলের সংখ্যা এবং কর্মীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য পৃথক স্ট্রং রুম এবং কাউন্টিং হলের পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
কমিশনের ‘ডিজিটাল’ নজরদারি এবারের গণনায় কারচুপি রুখতে প্রযুক্তির ব্যবহার সবথেকে বেশি। প্রতিটি কাউন্টিং হলে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে প্রতি মুহূর্তের ছবি রেকর্ড করা হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গণনা চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ কর্তারা সরাসরি নজরদারি চালাবেন। প্রতিটি রাউন্ড শেষে মাইক্রো-অবজারভার এবং রিটার্নিং অফিসারদের স্বাক্ষরিত রিপোর্ট পাওয়ার পরেই ফলাফল অনলাইনে আপলোড করা হবে।
নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে স্ট্রং রুম জঙ্গলমহল বা শিল্পাঞ্চলের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে যাতে গণনার দিন কোনও গোলমাল না হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে স্ট্রং রুমগুলো। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের বাইরে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, শুধুমাত্র বৈধ পরিচয়পত্র থাকা ব্যক্তিরাই নির্দিষ্ট সীমানার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
এক নজরে প্রস্তুতির খতিয়ান:
মোট কাউন্টিং হল: ৪৫৯টি।
সিস্টেম: দ্রুততম ফল পেতে রাউন্ড-ভিত্তিক ডিজিটাল আপডেট।
সুরক্ষা: স্ট্রং রুম থেকে কাউন্টিং টেবিল— সর্বত্র ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা।
কাল সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে ব্যালট ও ইভিএম যুদ্ধের চূড়ান্ত ফয়সালা। রাজনৈতিক মহলের মতে, কমিশনের এই ৪৫৯টি হলের নিখুঁত ব্যবস্থাপনা বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চলেছে। ইভিএম খোলার সাথে সাথেই কে এগিয়ে আর কে পিছিয়ে, তার প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের পেজে।





