ইভিএম কি সত্যিই হ্যাক করা সম্ভব? মমতার আশঙ্কার মাঝেই জেনে নিন স্ট্রং রুমের সেই গোপন নিরাপত্তা বলয়!

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন শেষ। এখন সবার নজর গণনা কেন্দ্রের দিকে। তবে ফল প্রকাশের আগেই ফের একবার ইভিএম (EVM) কারচুপির আশঙ্কায় সরব হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট শেষ হওয়ার পর থেকে গণনার দিন পর্যন্ত ইভিএম মেশিনগুলো ঠিক কীভাবে রাখা হয় এবং সেখানে কারচুপির কোনো অবকাশ থাকে কি না— এই নিয়ে আমজনতার মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই।

মমতার আশঙ্কা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ তুলেছেন যে, স্ট্রং রুমে ইভিএম বদল বা যান্ত্রিক কারচুপির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর মতে, বিরোধী দলগুলোর কর্মীদের স্ট্রং রুমের বাইরে কড়া নজরদারি চালানো উচিত। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ইভিএম-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই নিশ্ছিদ্র যে সেখানে বাইরের কারও হস্তক্ষেপ করা কার্যত অসম্ভব।

কীভাবে সুরক্ষিত থাকে ইভিএম? ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথেই প্রতিটি ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) মেশিন সিল করা হয়। সেখানে উপস্থিত থাকেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা। এরপর সেগুলিকে নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট ‘স্ট্রং রুমে’।

  • ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়: স্ট্রং রুমের বাইরে থাকে ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা। একদম ভেতরের স্তরে থাকে কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF), মাঝের স্তরে থাকে স্টেট আর্মড পুলিশ এবং বাইরের স্তরে থাকে স্থানীয় পুলিশ।

  • ডাবল লক সিস্টেম: স্ট্রং রুমের চাবি থাকে দুই ভিন্ন আধিকারিকের কাছে। কোনো একজন চাইলেই একা রুম খুলতে পারেন না।

  • সিসিটিভি ও ভিডিওগ্রাফি: পুরো এলাকাটি ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারিতে থাকে। কোনো কারণে ক্যামেরা বন্ধ হলে তৎক্ষণাৎ অ্যালার্ম বাজার ব্যবস্থা থাকে।

  • রাজনৈতিক এজেন্টদের পাহারা: প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা স্ট্রং রুমের বাইরে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে বসে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার এবং পাহারা দেওয়ার অনুমতি পান।

কারচুপির সম্ভাবনা কতটা? নির্বাচন কমিশনের টেকনিক্যাল টিমের মতে, ইভিএম কোনো ইন্টারনেট বা ব্লুটুথ ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত থাকে না, ফলে এটি দূর থেকে হ্যাক করা অসম্ভব। এছাড়া সিল করা মেশিন খোলার চেষ্টা করলেই তার প্রমাণ থেকে যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সতর্কবার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেও, সাধারণ ভোটারদের মনেও ইভিএম-এর সুরক্ষা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। তবে কমিশন আশ্বস্ত করেছে যে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, এই ‘নিরাপদ’ বাক্সের ভেতরে কার ভাগ্য সুনিশ্চিত হয়েছে— ঘাসফুল না কি পদ্ম? উত্তর মিলবে আগামী শনিবার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy