দেশের আমজনতা ও লোন গ্রহীতাদের জন্য এল বড় স্বস্তির খবর। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপ থাকা সত্ত্বেও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) রেপো রেট (Repo Rate) ৫.২৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আপাতত সাধারণ মানুষের মাসিক ইএমআই (EMI)-এর বোঝা বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আজ, শুক্রবার আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
দুই দিন ধরে চলা মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠকে ছয় সদস্যের প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। উল্লেখ্য, রেপো রেট হলো সেই সুদের হার, যে হারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ দেয়। এই হার স্থিতিশীল থাকায় ব্যাঙ্কগুলির ওপর ঋণের বোঝা বাড়েনি, যার ফলে গ্রাহকদের সুদের হারেও কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে রেপো রেট বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তবে আরবিআই-এর এই পদক্ষেপে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে মধ্যবিত্ত।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়ে তিনি জানান, ভারত যাবতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, “এ বছর বর্ষার ঘাটতির কারণে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে, যা মূল্যবৃদ্ধির ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে দেশে খাদ্যশস্য ও প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত জোগান রয়েছে, তাই বড় ধরনের কোনো সংকটের সম্ভাবনা নেই।”
আরবিআই-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ৭.৬ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মার্চ-এপ্রিল মাসে মুদ্রাস্ফীতির হার ৩.৭ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল এবং আগামী দিনগুলিতে সিপিআই (CPI) ইনফ্লেশন ৫.১ শতাংশের আশেপাশে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই (FDI)-এর প্রবাহ বাড়ছে এবং ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার বা ফরেক্স রিজার্ভ অত্যন্ত সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই সতর্ক অবস্থান প্রমাণ করে যে, দেশের আর্থিক ভিত অত্যন্ত মজবুত। রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখে আরবিআই আপাতত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে একটি চমৎকার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করল। এই ঘোষণা পরবর্তী কয়েক মাস লোন গ্রহীতাদের জন্য বড়সড় নিরাপত্তা কবচ হিসেবে কাজ করবে।





