মেঘালয়ে ‘হানিমুন মার্ডার’-এর চাঞ্চল্যকর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পশ্চিমবঙ্গে আরও এক হাড়হিম করা খুনের ঘটনা সামনে এল। আসানসোলে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, এবং এই ঘটনায় এক যুবতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কুলটিতে গলাকাটা দেহ উদ্ধার, নিহত দেবজ্যোতি সিং
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৪ জুন রাতে কুলটি থানার অন্তর্গত সীতারামপুর-এথোড়া রোডে এক যুবকের গলাকাটা দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবককে জামুরিয়া থানার নিঘার বাসিন্দা দেবজ্যোতি সিং (২৮) বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় মৃত যুবকের পরিবারের তরফে নিয়ামতপুর ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করা হয়, যার ভিত্তিতে কুলটি থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
গ্রেপ্তার পাম্মি শর্মা: অসঙ্গতিপূর্ণ বয়ান
তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল (বুধবার) বিকেলে পাম্মি শর্মা (২৩) নামে এক যুবতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি পুরুলিয়া জেলার পারবেলিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার বিকেলে অভিযুক্ত যুবতীকে নিয়ামতপুর ফাঁড়িতে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাম্মির কথায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সকালে অভিযুক্ত পাম্মিকে আসানসোল জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি খুন বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে।
মেঘালয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা: ‘ভিলেন’ কি এই যুবতীও?
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইন্দোরের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। গত ১১ মে তিনি সোনমকে বিয়ে করেন এবং ২০ মে নবদম্পতি মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয়ে যান। ২৩ তারিখ থেকে আচমকাই তারা নিখোঁজ হন। বিশেষ তদন্তকারী দল দম্পতির খোঁজে অভিযানে নামলে ২ জুন ওয়েইসাওডং জলপ্রপাতের কাছে একটি গিরিখাতে মেলে রাজার ক্ষতবিক্ষত দেহ। ৪ জুন ময়নাতদন্তের পর রাজার মৃতদেহ মেঘালয় থেকে ইন্দোরে পাঠানো হয়, তখনও সোনমের খোঁজ মেলেনি। ১৭ দিন পর গত রবিবার উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে নববধূ সোনমের খোঁজ মেলে এবং জানা যায়, এই কেসে সে ‘ভিক্টিম’ নয়, বরং ‘ভিলেন’।
এই ধরনের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার আবহে এবার এ রাজ্যে এক যুবককে খুনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এল, যেখানে সরাসরি এক যুবতীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ এবং অন্যান্য জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে। সমাজে অপরাধের এই প্রবণতা ক্রমশ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।





