ঘরনী ঘর ছেড়েছিলেন প্রায় ১০ মাস আগে। হাজার অনুরোধেও ফেরেননি। সেই দীর্ঘ বিচ্ছেদের যন্ত্রণা আর মানসিক অবসাদ সহ্য করতে না পেরে শেষমেশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন ৩২ বছর বয়সী এক যুবক। উত্তরপ্রদেশের পুনহেরা গ্রামের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মদ্যপ অবস্থায় আত্মঘাতী পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম দুষ্যন্ত। বুধবার রাত ১১টা নাগাদ গ্রামের মানুষ আচমকাই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় নিজের বাড়ির সামনেই পড়ে রয়েছেন দুষ্যন্ত। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। নিজের কাছে থাকা একটি দেশি পিস্তল দিয়েই তিনি নিজের ওপর গুলি চালান।
১০ মাসের অভিমান ও বিচ্ছেদ প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন দুষ্যন্ত। পারিবারিক কলহের জেরে তাঁর স্ত্রী গত ১০ মাস ধরে বাপের বাড়িতে থাকছিলেন। দুষ্যন্ত তাঁকে বারবার ফিরে আসার অনুরোধ করলেও স্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি আর ফিরবেন না। জীবনসঙ্গিনীর এই কঠোর সিদ্ধান্তই কি তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল? খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার খবর পেয়ে জালেসর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুষ্যন্তর মরদেহের পাশ থেকেই উদ্ধার হয়েছে একটি দেশি পিস্তল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক অশান্তি এবং একাকীত্বের জেরে অবসাদ থেকেই তিনি এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তদন্তে পুলিশ জালেসর থানার স্টেশন হাউস অফিসার অমিত কুমার জানিয়েছেন:
-
দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
-
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ ও সময় নিশ্চিত করা যাবে।
-
পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উৎসবের মরসুমে এমন একটি বিয়োগান্তক ঘটনায় পুনহেরা গ্রামে এখন বিষাদের সুর। স্ত্রীর সঙ্গে দূরত্বের জেদ যে এভাবে একটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নেবে, তা মেনে নিতে পারছেন না গ্রামবাসী।