আরব সাগরে ক্ষমতার ভারসাম্য এবার পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে। ভারতের তুরুপের তাস ‘ব্রহ্মোস’ (Brahmos) এবার আরও ঘাতক, আরও শক্তিশালী। সৌজন্যে, ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার সংস্করণ। ভারতের এই সামরিক প্রস্তুতি দেখে ইতিমধ্যেই চরম ‘টেনশনে’ প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান।
কেন ভয় পাচ্ছে পাকিস্তান?
এতদিন পাকিস্তানের ওরমারা বা গোয়াদরের মতো নৌঘাঁটিগুলো ভারত থেকে নিরাপদ দূরত্বে (৬০০-৭০০ কিমি) আছে বলে মনে করা হতো। কিন্তু নতুন ব্রহ্মোসের রেঞ্জ ৮০০ কিমি হওয়ায় এখন করাচি থেকে গোয়াদর—সবই ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতের নাগালে।
সুরক্ষিত ঘাঁটিতে হানা: ভারতীয় যুদ্ধজাহাজগুলো এখন নিজেদের কোনো ঝুঁকি ছাড়াই মাঝসমুদ্র থেকে পাকিস্তানের গভীরতম নৌবন্দর ও কমান্ড সেন্টারে নিখুঁত হামলা চালাতে পারবে।
ম্যাক ৩ গতি: শব্দের চেয়ে তিনগুণ দ্রুত গতি সম্পন্ন এই মিসাইল রাডারের নজর এড়িয়ে সমুদ্রের খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একে আটকানো কার্যত অসম্ভব।
সফটওয়্যার আপডেটেই কেল্লাফতে!
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন সংস্করণের সবথেকে বড় সুবিধা হলো—বিদ্যমান লঞ্চ সিস্টেমেই এটি কাজ করবে। শুধুমাত্র একটি সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমেই পুরনো যুদ্ধজাহাজগুলোকে এই বিধ্বংসী শক্তির উপযোগী করে তোলা সম্ভব। উন্নত ইঞ্জিন এবং বাড়তি জ্বালানি থাকার ফলে এর পাল্লা দ্বিগুণ হলেও নির্ভুলতায় কোনো ঘাটতি হবে না।
২০২৭-২৮ সালের মধ্যে মোতায়েন:
বর্তমানে এই ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চলছে। লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ২০২৭-২০২৮ সালের মধ্যে এটিকে ভারতীয় নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার। ভারতের হাতে থাকা উন্নত স্যাটেলাইট নজরদারি ব্যবস্থা এবং ড্রোনের শক্তি এই ব্রহ্মোসকে আরও অপরাজেয় করে তুলবে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন বা জাহাজ সংগ্রহের কৌশল এই ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোসের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। ভারত এখন গভীর সমুদ্রে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত ও নির্ভুল হামলা চালানোর কৌশলে কয়েক কদম এগিয়ে গেল।





