আরজি কর কাণ্ডে অবশেষে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন সরকার। শুক্রবার নবান্নে এক হাইপ্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ২০২৪ সালের আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে গাফিলতির দায়ে ৩ জন হেভিওয়েট আইপিএস (IPS) অফিসারকে সাসপেন্ড করা হলো।
সাসপেন্ড হওয়া অফিসারদের তালিকায় রয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, প্রাক্তন ডিসিপি (নর্থ) অভিষেক গুপ্ত এবং ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশমন্ত্রী হিসেবে স্পষ্ট জানান, আরজি কর মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হচ্ছে এবং এই অফিসারদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। প্রাথমিক তদন্তে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, এফআইআর (FIR) দায়ের করতে দেরি করা এবং নির্যাতিতার পরিবারকে টাকার লোভ দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র বা স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ স্তরের কোনো মৌখিক নির্দেশে এই অফিসাররা কাজ করেছিলেন কি না, তা জানতে তাঁদের ফোন কল ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটও খতিয়ে দেখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বড় পদক্ষেপের পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অভয়ার মা তথা পানিহাটির নবনির্বাচিত বিধায়ক রত্না দেবনাথ। মেয়ের বিচার চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালানো রত্নাদেবী ৩ আইপিএস অফিসারের সাসপেনশনকে স্বাগত জানালেও তাঁর আসল লক্ষ্য যে আরও বড়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি তোপ দাগেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। অভয়ার মা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “৩ পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও আমার লড়াই এখনই থামছে না। আমার মেয়ে যেদিন সম্পূর্ণ বিচার পাবে, আর এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন গ্রেফতার হবেন, ঠিক সেদিনই মা হিসেবে আমি আসল শান্তি পাব।”
আরজি কর কাণ্ড নিয়ে রাজধর্ম পালনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় এসেছিলেন, ৩ আইপিএস-কে সাসপেন্ড করে তিনি সেই পথেই প্রথম বড় পদক্ষেপ নিলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে অভয়ার মায়ের এই বিস্ফোরক দাবির পর রাজ্যের রাজনীতিতে যে নতুন করে তোলপাড় শুরু হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





