ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে এবার সরাসরি তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিল ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে আমেরিকা ইতিমধ্যেই জিততে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, এই যুদ্ধে রাশিয়া বা চিনের মতো শক্তিগুলো আমেরিকার কাছে কোনো বড় বাধা বা ‘ফ্যাক্টর’ নয় বলেই দাবি করেছেন তিনি।
আমেরিকার লক্ষ্য কেবল তেহরান: হেগসেথের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এখন একটাই—ইরান। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাশিয়া বা চিন এই সংঘাতে নাক গলালেও আমেরিকার রণকৌশলে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। তাঁর কথায়, “আমেরিকা এবং তার বন্ধু দেশগুলোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক পরিকাঠামো এতটাই শক্তিশালী যে, আমরা যতদিন চাইব এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারব।”
দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি: মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের এই বয়ান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমেরিকা কোনো সংক্ষিপ্ত সংঘাত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে প্রচুর রানওয়ে এবং অফুরন্ত সামরিক রসদ রয়েছে। ইরানকে কাবু করতে যতদিন প্রয়োজন, ততদিন অনায়াসেই এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে আমেরিকা।”
বিস্ফোরক দাবির নেপথ্যে: বিশেষজ্ঞদের মতে, হেগসেথের এই মন্তব্য মূলত ইরানকে মানসিক চাপে রাখার কৌশল। একদিকে যখন ইরান নতুন সুপ্রিম লিডারের অধীনে পাল্টা আক্রমণের ছক কষছে, তখন আমেরিকার এই “একলা চলো” নীতি এবং রাশিয়া-চিনকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি যুদ্ধকে আরও ভয়ংকর মোড়ে নিয়ে যেতে পারে।
পেন্টাগনের এই আত্মবিশ্বাস কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো ধ্বংসলীলার ইঙ্গিত? নাকি বিশ্বশক্তিগুলোকে পাশ কাটিয়ে ইরানকে একঘরে করার চাল? সময় বলবে। তবে হেগসেথের এই মন্তব্যের পর তেহরান যে চুপ করে থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য।