বিদেশের মাটিতে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল এক নিমেষে। আমেরিকায় পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি না পাওয়ার হতাশায় নিজেকে শেষ করে দিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের এক মেধাবী ছাত্র। মার্কিন মুলুকে এক ভারতীয় ছাত্রের এই রহস্যমৃত্যু ঘিরে এখন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, মৃত ওই যুবক অন্ধ্রপ্রদেশের এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা পেশায় একজন সামান্য নিরাপত্তারক্ষী। ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার নেশায় এবং পরিবারের অভাব দূর করার আশায় চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তাকে আমেরিকায় পাঠিয়েছিলেন বাবা। অনেক লড়াই করে পড়াশোনা শেষ করলেও গত কয়েক মাস ধরে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছিলেন ওই যুবক। অভিযোগ, একের পর এক ইন্টারভিউ দিয়েও সাফল্য না আসায় গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।
সেই অবসাদ থেকেই কি এই চরম সিদ্ধান্ত? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় পুলিশ। বিদেশের মাটিতে ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর যখন অন্ধ্রপ্রদেশের সেই ছোট্ট গ্রামে পৌঁছায়, তখন কার্যত পাথর হয়ে গিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষী বাবা। চোখের জল বাঁধ মানছে না প্রতিবেশীদেরও।
এখনও বিদেশের মাটিতেই পড়ে রয়েছে যুবকের নিথর দেহ। সরকারি জটিলতা কাটিয়ে কখন বাড়ির ছেলের দেহ গ্রামে ফিরবে, সেই অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছে পরিবারটি। ঋণগ্রস্ত বাবা একদিকে হারালেন তাঁর একমাত্র আশা-ভরসাকে, অন্যদিকে মাথার ওপর পাহাড়প্রমাণ ঋণের বোঝা।
বিদেশে ভারতীয় পড়ুয়াদের ওপর বাড়তে থাকা চাপ এবং কর্মসংস্থানের সংকট আবারও এই ঘটনার মাধ্যমে সামনে চলে এল। এই মেধাবী ছাত্রের মৃত্যু কি শুধুই একটি দুর্ঘটনা, নাকি বিদেশের মাটিতে ভারতীয় তরুণদের লড়াইয়ের এক করুণ প্রতিফলন? উত্তর খুঁজছে সমাজ।





