নির্বাচনের প্রাক্কালে কলকাতার অন্যতম হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র বেলেঘাটায় পা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর পা রাখতেই সেই পরিচিত ‘আগুনে’ মেজাজে আক্রমণ শানালেন বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ‘ঝালমুড়ি’ খাওয়া নিয়ে যে চর্চা শুরু হয়েছিল, এদিন যেন তার পাল্টা হিসেবেই ‘খাজা’ আর ‘ক্ষীরের নাড়ু’র রসায়ন টেনে আনলেন তৃণমূল নেত্রী।
ঠিক কী বলেছেন মমতা? বেলেঘাটা গান্ধী ভবনের সামনের সভা থেকে এদিন বিজেপি নেতাদের ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে মমতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, আর বলছেন বাংলাকে নাকি সব দিয়ে দিয়েছেন! আমি কী আপনাকে খাজা (উড়িষ্যার বিখ্যাত মিষ্টি) দেব? আমি কিন্তু আপনাকে বাংলার ক্ষীরের নাড়ু পাঠাব! আমাদের নাড়ু মিষ্টি, কিন্তু কামড়ালে দাঁত ভেঙে যাবে।” তাঁর এই শ্লেষাত্মক মন্তব্য শুনে তখন করতালিতে ফেটে পড়ে গোটা সভা।
গান্ধীজি ও দাঙ্গা প্রসঙ্গ: বেলেঘাটার ঐতিহাসিক গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে মমতা আরও বলেন, “এই বেলেঘাটায় গান্ধীজি বসেছিলেন দাঙ্গা রুখতে। আর আজ দিল্লি থেকে লোক এসে এখানে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। হামলা করছে, উস্কানি দিচ্ছে। আমি বেঁচে থাকতে বাংলায় ওসব হবে না।”
বিজেপি ও কমিশনকে তোপ: গ্রেফতারি পরোয়ানা ও আয়কর হানা নিয়েও এদিন সুর চড়ান তিনি। মমতার কথায়, “তৃণমূলের সবাইকে চোর বলছ? চোরের মায়ের বড় গলা! বাংলার মানুষ জানে কারা ডাকাত আর কারা চোর। নির্বাচনে হার নিশ্চিত জেনে এখন এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখাচ্ছ?”
বেলেঘাটার লড়াই: এদিন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং মানিকতলার প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডের সমর্থনে জোরালো সওয়াল করেন মমতা। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এবারের লড়াই ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে হবে এবং কলকাতার কোনো সিটেই বিজেপিকে জমি ছাড়বে না তাঁর দল।
ভোটের উত্তাপের মধ্যে মমতার এই ‘ক্ষীরের নাড়ু’র খোঁচা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন চর্চার বিষয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মিষ্টির মোড়কেই আসলে বিজেপিকে কড়া রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন তিনি।





