ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সর্বাত্মক সংঘাতের আবহে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এই সংঘাত সম্পর্কে তিনি ‘আগে থেকেই ওয়াকিবহাল’ ছিলেন এবং ‘ইরানকে অপমান, ক্ষয়ক্ষতি এবং মৃত্যু থেকে বাঁচাতে’ তিনি বহু চেষ্টা করেছেন। দুই দেশের মধ্যে যখন পাল্টাপাল্টি হামলার পর অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধের ঘোষণা এসেছে, তখন ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের ‘জানতাম’ এবং ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আগে থেকেই সব জানতাম এবং আমি ইরানকে অপমান, ক্ষয়ক্ষতি এবং মৃত্যু থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম; আমি খুব চেষ্টা করেছি ইরানকে রক্ষা করার জন্য, কারণ আমি মনেপ্রাণে চাইছিলাম যেন আমরা একটা সমঝোতায় আসতে পারি।”
ইসরায়েলকে ইরানের পাল্টা হামলা থেকে রক্ষা করবেন কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, “আমরা ইসরায়েলের সমর্থক।” মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়বে কিনা সে বিষয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান। “আমরা ইসরায়েলের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ। আমরা তাদের এক নম্বর মিত্র। দেখা যাক কী হয়,” – ট্রাম্পের এই মন্তব্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল-পন্থী অবস্থান আরও স্পষ্ট হলো।
‘দ্য রাইজিং লায়ন’ ও ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’: রক্তক্ষয়ী সূচনা
গত ১৩ জুন শুক্রবার ভোর ৪টায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী (আইএএফ) ‘দ্য রাইজিং লায়ন’ নামে এক সামরিক অভিযান শুরু করে। ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত ৮টি শহরে বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হয়। এই হামলায় অন্তত ৭৮ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হয়েছেন। ইরানের সেনাপ্রধান মোহাম্মদ বাঘেরিসহ বেশ কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও সামরিক স্থাপনাগুলো ছিল এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলায় ইরানের অন্তত ১০০টি স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে।
ইসরায়েলের এই অতর্কিত হামলার জবাবে শুক্রবার রাতে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ নামে পাল্টা সেনা অভিযান শুরু করে ইরান। এই হামলায় ইসরায়েলে একজন নিহত এবং ৪১ জন আহত হন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অশনি সংকেত
শুক্রবারে ইরানে হামলা শুরুর কিছুক্ষণ পরেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভিডিওবার্তায় ঘোষণা করেন, “যতদিন ইরানের পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি থাকবে, ততদিন ‘দ্য রাইজিং লায়ন’ অভিযান চলবে।”
জবাবে শনিবার সকালে পাল্টা এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’-ও অনির্দিষ্টকালের জন্য চলমান থাকবে।
এই পাল্টাপাল্টি এবং অনির্দিষ্টকালের সংঘাতের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্পের ‘জানতাম’ দাবি এবং কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগের কথা বলা হলেও, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর এই অনড় অবস্থান আঞ্চলিক শান্তিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্ব এখন এই সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে তাকিয়ে।