“আমার চামড়া গণ্ডারের হয়ে গেছে!”-রানা সরকারের ‘থ্রেট’ অভিযোগের মুখে মেজাজ হারালেন পিয়া সেনগুপ্ত?

বাইরে থেকে ঝকঝকে গ্ল্যামার দুনিয়া মনে হলেও, টলিউডের অন্দরমহল যে এখন বিবাদ আর বিতর্কের আখড়া, তা ফের প্রমাণিত। একদিকে যখন ফেডারেশন বনাম দেব-এর লড়াই তুঙ্গে, ঠিক তখনই নতুন যুদ্ধ শুরু হলো প্রযোজক রানা সরকার এবং ইমপা (IMPAA) সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের মধ্যে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনে টলিউডে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন রানা।

পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রানার?

প্রযোজক রানা সরকার তাঁর ফেসবুক দেওয়ালে পিয়া সেনগুপ্তকে সরাসরি আক্রমণ করে লিখেছেন, “স্ক্রিনিং কমিটির প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও পিয়া সেনগুপ্ত যে পক্ষপাতিত্ব করেছেন, তাকে কি ধিক্কার জানাব নাকি ইগনোর করব?” রানার অভিযোগের তালিকাটি বেশ দীর্ঘ:

  • দেব-কে অপমান: রানার দাবি, অভিনেতা দেবকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপমান করা হয়েছে।

  • হুমকি দিয়ে হল দখল: নিজের ছেলে বনি সেনগুপ্তর সিনেমা চালানোর জন্য পিয়া হল মালিকদের ‘থ্রেট’ বা হুমকি দিচ্ছেন।

  • তথ্য ফাঁস: স্ক্রিনিং কমিটির ভেতরের গোপন কথা বাইরে পাচার করে দিচ্ছেন কমিটির খোদ প্রেসিডেন্টই।

“আমার চামড়া গণ্ডারের,” পাল্টা তোপ পিয়ার

রানা সরকারের এই ক্রমাগত আক্রমণ নিয়ে এতদিন মৌন থাকলেও, এবার মুখ খুলেছেন পিয়া সেনগুপ্ত। এক অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “কে কী বলছে তাতে আমি গুরুত্ব দিই না। আমার চামড়া এখন গণ্ডারের হয়ে গেছে। এইসব খবর আমার কাছে মুড়ির ঠোঙার মতো।”

ছেলের ছবি নিয়ে ওঠা অভিযোগ নস্যাৎ করে পিয়া পালটা যুক্তি দেন। তিনি জানান, যদি তিনি সত্যিই প্রভাব খাটাতেন, তবে বনির ছবি ‘ভানুপ্রিয়া ভাতের হোটেল’ গত ডিসেম্বরেই মুক্তি পেত। পিয়ার কথায়, “ডিসেম্বরে যখন ৫টি ছবির মুক্তি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তখন সবার আগে কোপ পড়েছিল বনির ছবিতেই। আমি নিজেই শিবুকে (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) অনুরোধ করেছিলাম ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে জানুয়ারিতে যেতে। আমি যদি জোর করতাম, তবে ছবিটা ২৫শে ডিসেম্বরই আসত, ২৩শে জানুয়ারি নয়।”

বাংলা সিনেমার ‘অসুখ’ কি সারবে?

পর্দার সামনে সব তারকারা হাসিমুখে পোজ দিলেও, ভেতরে ভেতরে এই রেষারেষি এখন টলিউডের চেনা ছবি। স্ক্রিনিং কমিটির স্বচ্ছতা নিয়ে রানা সরকারের প্রশ্ন এবং পিয়া সেনগুপ্তের সাফাই— এই দুইয়ের মাঝে পড়ে সাধারণ দর্শকরা ফের সেই একই প্রশ্ন তুলছেন: “বাংলা সিনেমার পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হয় ঠিকই, কিন্তু টলিপাড়ার নিজেদের ভেতরের এই কলহ মিটবে কবে?”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy