বাংলার মসনদে পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়তেই তার প্রভাব বিনোদন জগতেও স্পষ্ট। হাওড়া শিবপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের বিপুল জয়ের পরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে খোদ টলিউডের অভিভাবক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। রুদ্রনীলকে শুভেচ্ছা জানানো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের শিকার হতেই এবার কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিলেন ‘বুম্বাদা’।
আসল ঘটনাটি কী? শিবপুরে তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়কে ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। জয়ের পর এক সাক্ষাৎকারে রুদ্রনীল জানান, ফল ঘোষণার রাতেই তাঁকে ফোন করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এই খবরটি জানাজানি হতেই নেটিজেনদের একাংশ প্রসেনজিতের গায়ে ‘রাজনৈতিক রঙ’ লাগাতে শুরু করেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, ক্ষমতার পালাবদল দেখে অভিনেতা নিজের অবস্থান পাল্টাচ্ছেন।
পাল্টা কী লিখলেন প্রসেনজিৎ? কটাক্ষ আর সমালোচনার ঝড় সামাল দিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন অভিনেতা। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি বরাবর রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকেছেন। প্রসেনজিৎ লেখেন, “দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না। আমি কাউকে ফোন করিনি, বরং আমার ছোট ভাই (রুদ্রনীল) আমাকে ফোন করেছিল। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আমি কেবল সেটুকুই পালন করেছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।”
কটাক্ষে বিদ্ধ নেটপাড়া: অভিনেতা সাফাই দিলেও নেটজনতার একাংশ কিন্তু ছাড়তে নারাজ। কেউ কেউ লিখেছেন, “সময় সুযোগ বুঝে সুর পাল্টে যাচ্ছে।” আবার কেউ বিদ্রূপ করে লিখেছেন, “সুযোগ বুঝে আপনিও ঝাঁপ দেবেন, সেটা আমরা বুঝি।” তবে এরই মাঝে অনেকে আবার টলিউডের ‘ব্যান কালচার’ বন্ধ করার আর্জিও জানিয়েছেন।
বাংলার রাজনীতিতে পালাবদলের পর টলিউডের সমীকরণ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, বিশেষ করে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে রুদ্রনীল ও প্রসেনজিতের অবস্থান কী হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আপাতত রুদ্রনীলকে দেওয়া একটি ‘আশীর্বাদ’ যে প্রসেনজিৎকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।





