উত্তর দমদমের মেগা শো শেষ করেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গন্তব্য ছিল হাবড়া। আর সেখান থেকেই তিনি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে শানালেন সবচেয়ে ধারালো আক্রমণ। বাংলায় বেকারত্ব এবং খাদ্য সংকটের জন্য সরাসরি ‘অনুপ্রবেশকারী’দের দায়ী করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি।
হাবড়ার সভা থেকে শাহের মূল আক্রমণ:
অধিকার হরণের অভিযোগ: শাহের দাবি, বাংলার তরুণরা আজ কর্মহীন কারণ তাঁদের চাকরির ভাগ চলে যাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে। তিনি বলেন, “আপনারা রেশন পাচ্ছেন না, কারণ আপনাদের হকের চাল-গম খেয়ে নিচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। আর মমতা দিদি ভোটব্যাঙ্কের জন্য তাদের পাহারা দিচ্ছেন।”
ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার সীমান্ত খুলে দিয়েছে যাতে অনুপ্রবেশকারীরা এসে ভোট দিয়ে দিদিকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখে। এর ফলে বাংলার আদি বাসিন্দারা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
সিএএ-তে জোরালো সওয়াল: হাবড়ার এই সভায় শাহ ফের একবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ নিয়ে সরব হন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা বিজেপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব:
শাহের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “ভোটের আগে ধর্মীয় মেরুকরণ আর ভয় দেখানোর রাজনীতি করতেই বাংলায় আসছেন শাহ। কর্মসংস্থান দিতে ব্যর্থ কেন্দ্র এখন অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।”
রাজনৈতিক গুরুত্ব:
হাবড়া এবং সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু। নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক আগে শাহের এই ‘চাকরি ও রেশন’ তত্ত্ব নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
এক নজরে: শাহের হুঙ্কার— “বিজেপি এলে বাংলায় একজন অনুপ্রবেশকারীও ঢুকতে পারবে না, সুরক্ষিত হবে তরুণদের চাকরি।”





