বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় ফলাফলের পর রাজ্য রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে এবার জাতীয় রাজনীতিতে নজর দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হারের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তিনি দেশের অবিজেপি জোট ‘ইন্ডিয়া’-কে (I.N.D.I.A.) আরও শক্তিশালী করার ডাক দিলেন। কালীঘাট থেকে দেওয়া বার্তায় মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পরাজয় তাঁকে দুর্বল নয়, বরং আরও লড়াকু করে তুলেছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনও নিজের অভিযোগের সুর চড়া রেখেছেন। তিনি দাবি করেন, “আমাদের সাধারণ মানুষ হারায়নি, আমাদের চক্রান্ত করে জোর করে হারানো হয়েছে।” তবে এই হারের গ্লানি নিয়ে বসে থাকতে রাজি নন তিনি। বরং আগামী দিনে দিল্লির মসনদ এবং জাতীয় স্তরে বিজেপির আধিপত্য রুখতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।
মমতা এও বলেন, জীবনে তিনি অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছেন। কোনো হারই যে তাঁর কাছে শেষ কথা নয়, সেই বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “জীবনের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত মানুষের জন্য লড়ে যাব। বাংলা থেকে শুরু করে দিল্লি—সর্বত্র এই লড়াই চলবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা নিজেকে এখন জাতীয় স্তরের নেত্রী হিসেবে আরও বড় ভূমিকায় তুলে ধরতে চাইছেন, যাতে রাজ্য রাজনীতির ক্ষতে জোট রাজনীতির প্রলেপ লাগানো যায়।
তৃণমূল নেত্রীর এই বার্তায় পরিষ্কার যে, তিনি পরাজয় মেনে নিয়ে অন্তরালে চলে যাওয়ার পাত্রী নন। বরং জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে কেন্দ্রবিরোধী আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে চান তিনি। মমতা যখন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শক্তি বৃদ্ধির কথা বলছেন, তখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আগামী দিনে সংসদীয় রাজনীতিতে এবং দিল্লির অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক নতুন ও শক্তিশালী বিরোধী স্বর হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছেন।
আপাতত রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর মমতা কীভাবে জাতীয় স্তরে নিজের প্রভাব ধরে রাখেন এবং বিরোধী জোটকে কতটা সংহত করতে পারেন, এখন সেটাই দেখার। তবে তাঁর আজকের এই ‘ইন্ডিয়া’ বার্তায় নিশ্চিতভাবেই দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।





