২০০৮ সালের আইপিএল-এর সেই অভিশপ্ত ‘স্ল্যাপগেট’ বা থাপ্পড় কেলেঙ্কারি ফের একবার শিরোনামে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রাক্তন সতীর্থ হরভজন সিং-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন শান্তাকুমারন শ্রীশান্ত। স্রেফ মুখ খোলাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাজ্জিকে ‘ব্লক’ করে দিয়ে তাঁদের বন্ধুত্বের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিলেন এই কেরল পেসার।
বিজ্ঞাপন নিয়েই যত গন্ডগোল
সম্প্রতি একটি বিজ্ঞাপনে ২০০৮ সালের সেই থাপ্পড় মারার ঘটনাটিকে কৌতুক হিসেবে দেখানো হয়েছে। আর এতেই চটেছেন শ্রীশান্ত। মালয়ালম সংবাদসংস্থা ‘মাতৃভূমি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, “এই বিজ্ঞাপনটি করে হরভজন প্রায় ৮০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা আয় করেছে। অথচ ঘটনাটি আমার জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল। সে আমাকে ফোন করে এটা নিয়ে প্রচার করতে বলেছিল। আমি সাফ জানিয়েছি— ক্ষমা করব, কিন্তু কোনোদিন ভুলব না।”
“সবই অভিনয়!”— বিস্ফোরক শ্রীশান্ত
শ্রীশান্তের দাবি, জনসমক্ষে হরভজন যে ভ্রাতৃত্বের ভাবমূর্তি তুলে ধরেন, তা আদতে লোক দেখানো। শ্রীশান্তের কথায়, “ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তাকে ভাই বলে ডাকতাম, কিন্তু এখন তাকে ইনস্টাগ্রামে ব্লক করে দিয়েছি। আমার বাবা-মা আমাকে ক্ষমা করতে শিখিয়েছেন, কিন্তু ভুলতে শেখাননি। ভারতের হয়ে খেলার সময় থেকে এখন পর্যন্ত সে যা করছে, সবটাই একটা অভিনয়।”
ফিরে দেখা স্ল্যাপগেট: ২০০৮ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ম্যাচের শেষে শ্রীশান্তকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে হরভজনের বিরুদ্ধে। ক্যামেরায় শ্রীশান্তের অঝোরে কান্নার সেই ছবি আইপিএল ইতিহাসের প্রথম ‘ভাইরাল’ বিতর্ক ছিল। ঘটনার জেরে ভাজ্জিকে সেবার পুরো মরসুমের জন্য নির্বাসিত করা হয়।
ভাজ্জির পিছু ছাড়ছে না বিতর্ক
শ্রীশান্তের অভিযোগ, হরভজন বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তাঁর পরিবার এবং মেয়েকে নিয়েও কথা বলেছেন, যা তিনি একেবারেই পছন্দ করছেন না। শ্রীশান্তের মতে, কেউ অন্যায় করলে তাকে ক্ষমা করা উচিত, কিন্তু ভুলে গেলে তারা বারবার একই অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি করে। আর ভাজ্জি তার সবথেকে বড় উদাহরণ।





