প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছেই তাঁদের সন্তান হলো নয়নের মণি। সন্তানের জন্য সেরা খাবার বা সেরা পোশাকের ব্যবস্থা করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় ভবিষ্যতের বড় খরচের কথা ভুলে যাই। কিন্তু একজন পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA)-এর মতে, সন্তানের জন্য সঞ্চয় করা কেবল একটি আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক রণকৌশল হওয়া উচিত।
সন্তানের উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মজীবন বা বিয়ে— প্রতিটি ধাপেই বর্তমানে যে হারে খরচ বাড়ছে, তাতে আগে থেকে প্রস্তুতি না নিলে মধ্যবিত্ত পরিবারের নাভিশ্বাস উঠতে পারে। তাই দেরি না করে আপনার সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বিশেষজ্ঞের দেওয়া এই টিপসগুলো মেনে চলতে পারেন:
১. শুরুটা হোক প্রথম দিন থেকেই: অনেকে ভাবেন সন্তান একটু বড় হলে সঞ্চয় শুরু করবেন। কিন্তু সিএ-র পরামর্শ হলো, সন্তানের জন্মের প্রথম মাস থেকেই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করা উচিত। একে বলা হয় ‘পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং’। যত কম বয়সে শুরু করবেন, দীর্ঘমেয়াদে সেই জমানো টাকা তত বড় অঙ্কে পরিণত হবে।
২. মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রাখুন: আজকের ১০ লাখ টাকা কিন্তু ১৫ বছর পরে একই মূল্য বহন করবে না। তাই শিক্ষার খরচ যেভাবে বাড়ছে, তা মাথায় রেখে এমন জায়গায় বিনিয়োগ করুন (যেমন— মিউচুয়াল ফান্ড বা সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা) যেখানে রিটার্ন মুদ্রাস্ফীতির হারকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
৩. লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ বা গোল প্ল্যানিং: সব টাকা এক জায়গায় জমিয়ে না রেখে লক্ষ্য ভাগ করে নিন। যেমন— ১০ বছর পরের স্কুলের খরচ, ১৮ বছর পরের কলেজের খরচ এবং ২৫ বছর পরের আনুষঙ্গিক খরচ। লক্ষ্য স্থির থাকলে আপনার বিনিয়োগের পথও পরিষ্কার থাকবে।
৪. বিমা এবং সুরক্ষা: বিনিয়োগের পাশাপাশি সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে টার্ম ইন্স্যুরেন্স থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে যেন আপনার সন্তানের পড়াশোনা বা ভবিষ্যৎ থমকে না যায়, সেই দিকটি নিশ্চিত করাই হলো প্রকৃত আর্থিক পরিকল্পনা।
মনে রাখবেন, আজ আপনার করা একটি সঠিক সিদ্ধান্তই আপনার সন্তানকে কাল এক সুরক্ষিত এবং চাপমুক্ত জীবন উপহার দিতে পারে। তাই আবেগের পাশাপাশি আর্থিক বুদ্ধিমত্তাকেও কাজে লাগান।





