আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কি AI-এর কাছে বিক্রি হচ্ছে? বড় বিপদের ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞ মহলে

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেটে আমাদের নাম, ফোন নম্বর কিংবা ই-মেল আইডি যে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে বিক্রি হয়ে যায়, তা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে আসতেই প্রযুক্তি বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গুগ্‌ল (Google), মেটা (Meta) এবং ওপেন এআই (Open AI)-এর মতো বিশ্বের তাবড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI সংস্থাগুলোও ব্যবহারকারীদের গোপন ডাটা থার্ড-পার্টি বা বাইরের কোনো সংস্থার হাতে তুলে দিচ্ছে।

ইলেকট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টার (EPIC) নামে একটি ডিজিট্যাল রাইট নন-প্রফিট সংস্থা তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছে। সংস্থাটির দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে যেসব কোম্পানি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) নিয়ে কাজ করছে, তাদের মধ্যে বড় অংশের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনেক AI কোম্পানি ব্যবহারকারীদের ডাটা শেয়ারিং বন্ধ করার যে অপশন বা পেজ, সেটি ইচ্ছাকৃতভাবেই জটিল করে রেখেছে। অনেক ক্ষেত্রে সেই লিঙ্কগুলো সঠিকভাবে কাজ করে না, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন দেখা যাচ্ছে, কিছু AI ভেন্ডর ইউজারদের ডাটা ডিলিট বা প্রাইভেসি সেটিংসে পরিবর্তন করার জন্য একটি সিঙ্গেল রিকোয়েস্টের পরিবর্তে একাধিক দীর্ঘ ফর্ম সাবমিটের নিয়ম চালু করেছে। ব্যবহারকারীরা এই দীর্ঘ ঝঞ্ঝাট এড়াতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে আপস করছেন। তবে আশার কথা হলো, ওপেন এআই-এর চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) তাদের প্ল্যাটফর্মে ‘রিমুভ পার্সোনাল ইনফরমেশন’ নামক একটি অপশন রেখেছে, যা ব্যবহারকারীদের ডাটা স্টোরেজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আজকের AI কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম অনেকটাই ডাটা ব্রোকার বা ডেটিং অ্যাপগুলোর মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার অজুহাতে কৌশলে প্রচুর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। এরপর সেই ডাটা ব্যবহার করা হচ্ছে তাদের নিজস্ব অ্যালগরিদম উন্নত করতে এবং AI মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দিতে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক সংস্থা সংগৃহীত এই ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় কোনো বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে মোটা টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই শুরু হচ্ছে ই-মেল মার্কেটিং, টেলিফোন মার্কেটিং বা স্প্যাম কলের দৌরাত্ম্য।

ইপিআইসি-র রিপোর্টে মেটা (Meta), এক্স (X), এবং টিন্ডার (Tinder)-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেখা গেছে, এই সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ডাটা শেয়ারিং বন্ধ করতে চাইলে প্রথমে লগইন করার বাধ্যতামূলক নিয়ম রয়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা অনেক সময় পাসওয়ার্ড মনে রাখতে না পারা বা জটিলতার কারণে এই কাজটি এড়িয়ে যান, যার সুযোগ নিচ্ছে সংস্থাগুলো। ডিজিটাল নিরাপত্তার খাতিরে বিশেষজ্ঞেরা সাধারণ ইউজারদের নিয়মিত নিজেদের প্রাইভেসি সেটিং চেক করার এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের অ্যাক্সেস সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, নিজেদের গোপনীয়তা রক্ষা করার দায়িত্ব এখন পুরোপুরি ব্যবহারকারীদের ওপরই এসে পড়ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy