আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের আঁচ ভারতে? হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম, বড় বিপদের সংকেত?

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে গত তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব এখন বিশ্বজুড়ে। এর ফলে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক লজিস্টিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ১৫ দিনে ভারতে পেট্রোল, এলপিজি, সিএনজি ও পিএনজি-র দাম তিনবার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের বাজেটে বড় প্রভাব ফেলেছে।
তবে এই সংকটের দায় কেবল সরকারের ওপর চাপানো অনুচিত। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সরাসরি প্রতিফলন ঘটছে খাদ্যপণ্য, মোবাইল রিচার্জ এবং সুইগি-জোম্যাটোর মতো পরিষেবাগুলোর ক্রমবর্ধমান মূল্যে। এমনকি এই মন্দার প্রভাবে ব্যাংকগুলোর সুদের হারও প্রভাবিত হচ্ছে।
যদিও দেশ বিকল্প শক্তি হিসেবে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ এবং ইলেকট্রিক যানের ওপর জোর দিচ্ছে, তবুও যতক্ষণ না অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে, ততক্ষণ এই সংকট কাটানো কঠিন। এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে, তা এখন তাদেরই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকার সম্মান বাঁচাতে এবং যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাঁচতে সম্মানজনক যুদ্ধবিরতিই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই কঠিন সময়ে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা না তৈরি করে দেশজুড়ে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।