পঞ্জাবের জলন্ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন আম আদমি পার্টির (AAP) প্রভাবশালী নেতা লাকি ওবেরয়। বৃহস্পতিবার মডেল টাউন এলাকার একটি গুরুদ্বারের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়ে গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ।
ঠিক কী ঘটেছিল? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, লাকি ওবেরয় মডেল টাউনের একটি গুরুদ্বারে প্রার্থনা করতে গিয়েছিলেন। তিনি যখন সেখান থেকে বেরোচ্ছিলেন, তখনই একটি স্কুটিতে করে দুই দুষ্কৃতী এসে তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, লাকি ওবেরয়কে লক্ষ্য করে পরপর ৫টি গুলি চালানো হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আততায়ীরা পালিয়ে যায়। তাঁকে দ্রুত নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: খবর পেয়েই পুলিশ এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে। তদন্তকারীদের মতে, দুই সন্দেহভাজনের মধ্যে একজন সরাসরি গুলি চালিয়েছে। লাকি ওবেরয়ের স্ত্রী অতীতে আম আদমি পার্টির পুরসভা নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন এবং রাজনৈতিক মহলে লাকি ওবেরয় ক্যান্ট এলাকার এক প্রভাবশালী নারী নেত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। ফলে এই খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক কোনো শত্রুতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিরোধীদের আক্রমণ: এই ঘটনায় পঞ্জাবের মান সরকারতে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন শিরোমণি অকালি দলের নেতা সুখবীর সিং বাদল। তাঁর দাবি, পঞ্জাবে অপরাধীদের রাজত্ব চলছে। সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি শাসক দলের নেতারাও এখন নিরাপদ নন। জানুয়ারি মাস থেকে রাজ্যে ঘটে যাওয়া একাধিক খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।