“আকাশে ১ মিনিটের বিভীষিকা”-দুই অভিজ্ঞ পাইলট থাকা সত্ত্বেও ঘটলো বড় দুর্ঘটনা?

আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের পথে পাড়ি দিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI171। কিন্তু এই উড়ানটি যেন এক অলৌকিক যাত্রার শুরু না হয়ে, হয়ে দাঁড়ালো এক মিনিটের এক শ্বাসরুদ্ধকর বিভীষিকা, যার শেষ পরিণতি এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। আকাশ ছুঁয়ে ওঠার মাত্র কয়েক মুহূর্ত পরেই বিমানটি শুরু করে এক আকস্মিক, নিয়ন্ত্রনহীন পতন। মাত্র ৬২৫ ফুট উচ্চতা থেকে, অবিশ্বাস্য ৪৭৫ ফুট প্রতি মিনিটের গতিতে সেটি নেমে আসতে শুরু করে, আর পাইলটরা এই ভয়াবহতার মোকাবিলায় হাতে পেয়েছিলেন মাত্র ৬০টি মূল্যবান সেকেন্ড।

বিমানের ককপিটে ছিলেন দুই অভিজ্ঞ পাইলট – ক্যাপ্টেন সুমিত সাবরওয়াল এবং ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দর। তাঁদের সম্মিলিত উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল প্রায় ৯,৩০০ ঘণ্টা; ক্যাপ্টেন সাবরওয়ালের একাই ছিল ৮,২০০ ঘণ্টা, আর ফার্স্ট অফিসার কুন্দরের ছিল ১,১০০ ঘণ্টা। এত অভিজ্ঞতার পরেও কেন এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

বিমানটি উড়ানের কিছুক্ষণ পরেই এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর কাছে একটি ‘MAYDAY’ কল পাঠায়। বিমান চলাচলে ‘MAYDAY’ একটি চূড়ান্ত বিপদের সঙ্কেত, যা কেবল চরম যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ, ককপিটের অভ্যন্তরে পাইলটরা বুঝে গিয়েছিলেন, এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি তারা। কিন্তু এই সঙ্কেত পাঠানোর পর থেকেই ATC বিমানটির সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনি। বারবার চেষ্টা করেও ভেসে আসেনি কোনো সাড়া।

নীরবতার পরেই আসে ধ্বংসের খবর। বিমানটি বিমানবন্দরের বাইরের একটি আবাসিক এলাকার উপর আছড়ে পড়ে। প্রাথমিক অনুমান, একটি বহুতলের সঙ্গে ধাক্কা লেগেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে ঘন কালো ধোঁয়া বহু দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল। DGCA (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন) দ্রুত একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, “AI171 ফ্লাইটটি আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল। উড়ানের পরপরই এটি রানওয়ে ২৩ থেকে ছাড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই MAYDAY কল দেয়। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। বিমানটি রানওয়ের বাইরে গিয়ে একটি বসত এলাকায় ভেঙে পড়ে।”

এই মুহূর্তে দুর্ঘটনাস্থলে জোর কদমে উদ্ধারকাজ চলছে। ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে কিছু যাত্রীকে জীবিত অবস্থায় বের করা সম্ভব হয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, যা আশার ক্ষীণ আলো দেখাচ্ছে। তবে, এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে মৃত্যুর সংখ্যা ঘোষণা করা হয়নি। যেহেতু দুর্ঘটনাটি একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঘটেছে, তাই বিমানের যাত্রী ছাড়াও এলাকার বাসিন্দাদের হতাহতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দেশের এই শোকের মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন। তিনি কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন। একইসঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য – উভয় স্তরেই উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে এই দুর্ঘটনার আসল কারণ দ্রুত উদ্ঘাটিত হয়।

AI171 দুর্ঘটনার মূল কারণ জানতে এখন সবার নজর ‘ব্ল্যাক বক্স’ এবং ‘ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার’-এর বিশ্লেষণের দিকে। এটিই পারবে বিমানের শেষ মুহূর্তগুলোর তথ্য, পাইলটদের কথোপকথন এবং যান্ত্রিক ত্রুটির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরতে। গোটা দেশের মানুষ এখন DGCA এবং তদন্তকারী দলের রিপোর্টের অপেক্ষায়, যা এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পেছনের রহস্য উন্মোচন করবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy