আকাশপথে বড় ধাক্কা! ১ জুন থেকে বাতিল হতে চলেছে প্রচুর ফ্লাইট, আপনার যাত্রা কি নিরাপদ?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এবার আছড়ে পড়ল ভারতের আকাশপথে। আপনি কি আগামী তিন মাসের মধ্যে বিমানে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের দুই বৃহত্তম বিমান সংস্থা—এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) এবং ইন্ডিগো (IndiGo)—আগামী ১ জুন থেকে তিন মাসের জন্য তাদের ফ্লাইট সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমানোর এক বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেন হঠাৎ এই বড় কোপ?
গরমের ছুটি শেষ হতেই বিমান পরিষেবা ক্ষেত্রের এই খবরে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জুন মাস থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ভারতের আকাশে এই দুই বিমান সংস্থার ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে চলেছে। এয়ার ইন্ডিয়া তাদের ডোমেস্টিক নেটওয়ার্কে প্রায় ১৫% ফ্লাইট কমানোর ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ভারতের বৃহত্তম বাজেট এয়ারলাইন ইন্ডিগো তাদের দৈনন্দিন ১,৯৫০টি ফ্লাইটের মধ্যে প্রায় ৫% থেকে ৭% ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ, রোজ কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে যাত্রী ভোগান্তি যে চরমে পৌঁছাবে, তা বলাই বাহুল্য।

যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে আকাশ:
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের প্রভাব। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইরান সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) রুটটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমানের জ্বালানির মূল্যে। কোনো এয়ারলাইনের মোট খরচের প্রায় ৪০% ব্যয় হয় জ্বালানির জন্য। এয়ার ইন্ডিয়ার সূত্রমতে, প্রতি কিলোলিটার জ্বালানির দাম ৮০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই আকাশছোঁয়া জ্বালানি খরচ বহন করে ফ্লাইট চালানো এয়ারলাইনগুলোর কাছে এখন সরাসরি লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোন কোন রুট সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত?
এয়ারলাইনগুলো সব রুট বন্ধ করছে না, বরং ফ্লাইটের সংখ্যা (ফ্রিকোয়েন্সি) কমিয়ে দিচ্ছে। মূলত দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো ব্যস্ত হাব থেকে চলাচলকারী রুটের ওপর এর বড় প্রভাব পড়বে। মুম্বই থেকে আমেদাবাদ, নাগপুর, পটনা এবং ভোপালগামী ফ্লাইটের সংখ্যা কমতে পারে। একইভাবে, দিল্লি থেকে হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং কলকাতাগামী ফ্লাইটের ওপরও কোপ পড়তে চলেছে। শেষ মুহূর্তের হয়রানি এড়াতে এয়ারলাইনগুলো ইতিমধ্যেই তাদের বুকিং ওয়েবসাইট থেকে এই ফ্লাইটগুলো সরিয়ে নিয়েছে।

টিকিটের দাম কি বাড়বে?
জুন মাসে স্কুল-কলেজ খুলে যাওয়ায় এমনিতেই এয়ারলাইন শিল্পে যাত্রী চাহিদার মন্দা বা ‘লিন সিজন’ শুরু হয়। সেই চাহিদা কমার আশঙ্কায় বিমান সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় সিটের অভাব দেখা দেবে কি? সেই সুযোগে টিকিটের দাম কি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে? পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। আপাতত যাত্রীদের পরামর্শ, ভ্রমণের আগে বিমানের ওয়েবসাইট চেক করে নেওয়া জরুরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy