আইভিএফ (IVF) প্রক্রিয়া চলাকালীন চরম অবহেলা এবং শিশু অদলবদলের এক গুরুতর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দিল্লিতে। রাহুল রাঠোর ও মিনু রাঠোর নামক এক দম্পতি অভিযোগ করেছেন, দিল্লির একটি আইভিএফ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন তাদের যমজ সন্তানদের অদলবদল করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে তাঁরা ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
কী ঘটেছিল? পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে গ্রেটার কৈলাশের এসসিআই আইভিএফ হাসপাতালে চিকিৎসা করান এই দম্পতি। ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি দ্বারকার ম্যাক্স হাসপাতালে তাদের যমজ সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের কিছু সময় পর থেকেই শিশুদের শারীরিক গঠন ও মুখের গড়ন নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে বাবা-মায়ের মনে। সংশয় দূর করতে তাঁরা ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই রিপোর্টে উঠে আসে বিস্ফোরক তথ্য—শিশু দুটির মধ্যে কোনো জৈবিক মিল নেই!
হাসপাতাল ও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ: রাহুল রাঠোরের অভিযোগ, এই রিপোর্ট পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালেও তাঁরা কোনো সদুত্তর দেননি। এমনকি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালেও ২৫ জানুয়ারি থেকে দীর্ঘ তিন মাস এফআইআর দায়ের করা হয়নি। উল্টে পুলিশ দাবি করেছিল যে, দম্পতিরা দাতা (Donor) ব্যবহার করেছিলেন, যা অস্বীকার করেছেন তাঁরা।
অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় ভুক্তভোগী পরিবারকে। আদালতের কঠোর নির্দেশে ৩১ মার্চ এফআইআর দায়ের করা হলেও, তদন্তের গতি নিয়ে রয়েছে চূড়ান্ত অসন্তোষ। রাহুলের দাবি, তদন্ত শুরু হওয়ার পর নথিপত্র জাল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, পুলিশ এখন এআরটি (ART) বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার দোহাই দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছে।
ন্যায়বিচারের দাবি: ভুক্তভোগী বাবা রাহুল রাঠোর আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের সন্তানের বয়স এখন ছয় মাস, কিন্তু আইনি জটিলতায় সত্য উদ্ঘাটন হচ্ছে না। যদি সঠিক সময়ে হাসপাতালের নথিপত্র ও ভ্রূণ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হতো, তবে আজ এই অনিশ্চয়তা থাকত না।”
এখন প্রশ্ন উঠছে, আইভিএফ সেন্টারগুলোর নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে। এই ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন রাঠোর দম্পতি। তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজধানীর চিকিৎসা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





