‘আইন তৈরির ক্ষমতা কমিশনের নেই!’ বাইক নিয়ন্ত্রণ মামলায় হাইকোর্টে প্রবল চাপে নির্বাচন কমিশন

ভোটের মরসুমে বাইক নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনের জারি করা নির্দেশিকা নিয়ে আইনি লড়াই এবার তুঙ্গে। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে এই মামলার দীর্ঘ শুনানি সম্পন্ন হয়। কমিশনের যুক্তি এবং পালটা আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণের পর আপাতত এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত।

কমিশনের যুক্তি: অপরাধ রুখতে বাইক শাসন
শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জীষ্ণু চৌধুরী সওয়াল করেন যে, বাইক ব্যবহার করে দুষ্কৃতীদের পালানো বা নাকা তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়া অনেক সহজ। কমিশনের কাছে অনবরত অভিযোগ আসছে যে, বাইকে চড়ে এসে ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাইকের পিছনে বসে থাকা আরোহীরাই বেশি অপরাধমূলক কাজ করে থাকে বলে আদালতে দাবি করে কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থেই এই কড়াকড়ি প্রয়োজন বলে জানানো হয়।

আদালতের তির্যক প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ
কমিশনের এই যুক্তি শুনলেও বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, আইনের ঠিক কোন ধারায় এই ধরণের ঢালাও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে? আদালত স্পষ্ট জানায়, “বাইক মিছিল বন্ধের সিদ্ধান্তে আপনারা ১১০ ভাগ সঠিক, কিন্তু সাধারণ মানুষের যাতায়াত কেন বন্ধ হবে?” যারা শ্রমিক, মজদুর বা কোচিং সেন্টার চালান, তাঁদের কাছে সরকারি আইডি কার্ড না থাকলে তাঁরা কীভাবে রাস্তায় বেরোবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি। তিনি পরামর্শ দেন, নাকা চেকিংয়ে বাইক রাখা হোক, কিন্তু ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে এই নিয়ন্ত্রণ কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

রাজ্যের অবস্থান ও রায়দান স্থগিত
রাজ্যের পক্ষ থেকে সওয়ালে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের আইন তৈরির কোনো ক্ষমতা নেই এবং কোন ধারায় এই বাইক নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা কমিশন স্পষ্ট করতে পারেনি। অন্যদিকে, কমিশনের অন্য আইনজীবী ডি.এস. নাইডু রাজ্যের হিংসার ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দুপক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানান, ২৯ তারিখ ভোট হলে ২৮ তারিখ থেকে নিয়ন্ত্রণ শুরু করা যেত কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। আপাতত মামলার শুনানি শেষ হয়েছে এবং রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy