কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে নববর্ষের আবহে কর্মচারীদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। সূত্রের খবর, এবার কেবল মূল বেতন বা বেসিক স্যালারি বৃদ্ধিই নয়, বরং ভাতা বা ‘অ্যালাউন্স’ দেওয়ার ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সন্তানের পড়াশোনার খরচ এবং ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ভাতার খবরে শোরগোল পড়ে গেছে।
সন্তানের শিক্ষা ভাতার বিপুল বৃদ্ধি?
বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে সরকারি কর্মচারীরা সন্তান প্রতি মাসে ২,২৫০ টাকা হারে চিলড্রেন এডুকেশন অ্যালাউন্স (CEA) পান। তবে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের দাবি এবং মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে অষ্টম বেতন কমিশনে এই অঙ্ক একলাফে ৭,০০০ টাকা করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
যদি এটি কার্যকর হয়, তবে দুই সন্তানের পড়াশোনার জন্য একজন কর্মচারী বছরে মোটা অঙ্কের টাকা সহায়তা পাবেন।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তানদের ক্ষেত্রে এই ভাতার পরিমাণ আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন ‘ডিজিটাল অ্যালাউন্স’ (Digital Allowance):
আধুনিক যুগে অফিসের কাজ এখন আর কেবল ফাইলে সীমাবদ্ধ নেই। মোবাইল ডাটা, ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এই খরচ মেটাতেই মাসিক ২,০০০ টাকা ডিজিটাল অ্যালাউন্স চালুর কথা ভাবছে কমিশন। ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা অফিসের বাইরেও ডিজিটাল কানেক্টিভিটি বজায় রাখার পুরস্কার হিসেবেই এই নতুন ভাতা যুক্ত হতে পারে।
অষ্টম বেতন কমিশনে আর কী কী থাকতে পারে?
বেসিক পে বৃদ্ধি: ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৬,০০০ থেকে ২৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: বর্তমান ২.৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৩.৬৮ করার জোরালো দাবি উঠেছে। এটি কার্যকর হলে সামগ্রিক বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বাড়ি ভাড়া ও যাতায়াত ভাতা: বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির হার অনুযায়ী HRA এবং যাতায়াত ভাতাতেও বড়সড় সংশোধন আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
কবে কার্যকর হতে পারে?
সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সেই হিসেবে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার কথা। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি, তবে বাজেট পরবর্তী সময়ে এই নিয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের এই দাবিগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে মধ্যবিত্ত সরকারি চাকুরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান যে অনেকটাই উন্নত হবে, তা বলাই বাহুল্য।





