চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য আসতে চলেছে দুর্দান্ত এক সুখবর। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI-IW)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) বৃদ্ধির ঘোষণা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
ঐতিহাসিক ট্রেন্ড বজায় রেখে মোদী সরকার সাধারণত মার্চের শেষ সপ্তাহেই বছরের প্রথম ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করে। গত বছরগুলোতেও ২৪ থেকে ২৮শে মার্চের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামী ২০শে মার্চ থেকে ৩১শে মার্চের মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়তে পারে। এর ফলে সরাসরি উপকৃত হবেন প্রায় ৫০ লক্ষ সরকারি কর্মী এবং ৬৮ লক্ষ পেনশনভোগী।
বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার কত?
শ্রম ব্যুরোর ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা দুটি সম্ভাবনার কথা বলছেন:
৪% বৃদ্ধি: যদি ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে বর্তমানের ৫৮% থেকে বেড়ে মোট ডিএ দাঁড়াবে ৬২ শতাংশে।
৩% বৃদ্ধি: অন্য একটি হিসেব অনুযায়ী, গড় সূচক ১৪৮.২ পয়েন্ট ধরলে ডিএ হতে পারে ৬০ শতাংশ।
বকেয়া বা এরিয়ার (Arrear) প্রাপ্তি
এই মহার্ঘ ভাতা ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ, মার্চ মাসে ঘোষণা হলেও কর্মচারীরা জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ—এই তিন মাসের বর্ধিত টাকা বা এরিয়ার একসাথে হাতে পাবেন।
উদাহরণ: যদি কোনো কর্মীর মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা হয়, তবে ৩% বৃদ্ধিতে তাঁর মাসিক বেতন বাড়বে ৫৪০ টাকা এবং সাথে মিলবে তিন মাসের বকেয়া টাকাও।
অষ্টম পে কমিশন ও মহার্ঘ ভাতার গুরুত্ব
সপ্তম পে কমিশনের মেয়াদ ৩১শে ডিসেম্বর ২০২৫-এ শেষ হয়েছে। বর্তমানে অষ্টম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে মুদ্রাস্ফীতির বাজারে অগ্নিমূল্য জিনিসের দামের সঙ্গে পাল্লা দিতে এই ডিএ বৃদ্ধি কেন্দ্রীয় কর্মীদের জন্য এক বিশাল বড় ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে।