ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্দরে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হলো। সোমবার দলের কার্যকরী সভাপতি নীতিন নবীন জাতীয় সভাপতি পদের জন্য তাঁর মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং জেপি নাড্ডার উপস্থিতিতে ৩৭টি মনোনয়ন পত্র জমা পড়ার পর এটি স্পষ্ট যে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির দ্বাদশ সর্বভারতীয় সভাপতি হতে চলেছেন নীতিন নবীন। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে এই গুরুভার কাঁধে নিয়ে তিনি দলের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হওয়ার রেকর্ড গড়তে চলেছেন।
বিহারের পাঁচবারের বিধায়ক নীতিন নবীনের এই উত্থান রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো চমক। ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কার্যকরী সভাপতি করার মাধ্যমেই হাইকমান্ড পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। ছত্তিশগড় নির্বাচনে দলের জয়ে তাঁর নেপথ্য ভূমিকা এবং যুব মোর্চায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে এই শীর্ষ পদে বসাতে সাহায্য করেছে। বিহার থেকে তিনিই প্রথম নেতা যিনি বিজেপির জাতীয় সভাপতির ব্যাটন হাতে নিচ্ছেন।
তবে নবীনের এই পথ পুষ্পশয্যা নয়। সভাপতি হিসেবে তাঁর সামনে রয়েছে একগুচ্ছ কঠিন চ্যালেঞ্জ:
পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন: পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরির আসন্ন নির্বাচন নবীনের প্রথম বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে পদ্ম ফোটানো তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
বর্ণনাভিত্তিক জনগণনা ও সংরক্ষণ: দেশে প্রথমবার শুরু হওয়া বর্ণভিত্তিক আদমশুমারি এবং লোকসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা নবীনের মেয়াদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
২০২৯ লোকসভা নির্বাচন: ২০২৪-এ নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর, ২০২৯-এর জন্য দলকে নতুন করে সাজানো এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে হারানো জমি পুনরুদ্ধার করা নবীনের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হবে।
আগামী ৩ বছর নীতিন নবীনের নেতৃত্বে বিজেপি কোন পথে হাঁটে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।





