লোকসভা নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ এবার চরমে। তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতিবিধি এবং তাঁদের গাড়ি তল্লাশি নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলল জোড়াফুল শিবির। ভিত্তি? একটি ভাইরাল হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, যার স্ক্রিনশট নিয়ে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারে কড়া নাড়ল তৃণমূল কংগ্রেস।
কী রয়েছে সেই স্ক্রিনশটে?
তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী শিবিরের প্রভাবশালী নেতাদের যোগসাজশে অভিষেক ও রুজিরার গাড়ি টার্গেট করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে জনৈক ব্যক্তিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় এবং তাঁর স্ত্রীর গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিতে দেখা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, গাড়ি তল্লাশি করতে পারলে বিশেষ ‘পুরস্কারের’ প্রলোভন দেওয়া হয়েছে বলেও তৃণমূলের দাবি।
মূল অভিযোগ: তৃণমূলের মতে, এই চ্যাট প্রমাণ করে যে কেন্দ্রীয় সংস্থা বা বিশেষ মহলের মদতে বিরোধী নেতাদের হেনস্থা করার একটি সুপরিকল্পিত ছক কষা হচ্ছে।
কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল
বুধবার এই স্ক্রিনশট এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল। তাঁদের দাবি:
নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
এক জন নেতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা কেন লঙ্ঘন করা হচ্ছে, তার তদন্ত চাই।
এই চ্যাটের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করতে হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। শাসক শিবিরের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে আটকানো যাচ্ছে না বলেই এই ধরনের নিচুতলার চক্রান্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের মতে, তল্লাশি চালানো বা নজরদারি রাখা আইনশৃঙ্খলার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, একে চক্রান্তের রূপ দেওয়া হচ্ছে স্রেফ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ওই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট কি সত্যিই আসল? নাকি নির্বাচনের মুখে এটি নতুন কোনো রাজনৈতিক চাল? আপাতত কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।





