‘অভিষেক না কল্যাণ’—মমতাকে বাছতে হবে! কড়া মন্তব্যের পর আজ মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ যেন প্রতিদিন পাল্টাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “অভিষেকের জন্যই আমাদের ‘চোর’ স্লোগান শুনতে হচ্ছে। মমতাদিকে এবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি অভিষেককে চাইবেন, নাকি আমাদের মতো পুরনো সৈনিকদের?” কল্যাণের এই চ্যালেঞ্জ সরাসরি দলীয় হাইকমান্ডকে বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক প্রকার কোণঠাসা করার চেষ্টা ছিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অভিষেকের প্রতিক্রিয়া: দীর্ঘ সময় চুপ থাকার পর আজ এই বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “দলের প্রতিটি সদস্যের নিজস্ব মতামত থাকতে পারে, কিন্তু দলের বৃহত্তর স্বার্থ এবং শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কেউ নয়। মমতাদি দলের নেত্রী, তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আর কে দলের সম্পদ বা কে দায়, তা সময় এবং দলই বিচার করবে।”

অভিষেক এদিন কোনো সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণে না গিয়ে বরং কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে দলের ভাবমূর্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে তিনি সচেতন।

দলীয় অন্দরে অস্থিরতা: আজ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে না যাওয়া এবং অভিষেকের সাথে তাঁর মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠায় তৃণমূলের অন্দরে জল্পনা চরমে পৌঁছেছে। দলের পুরনো বনাম নতুন প্রজন্মের লড়াই কি চরম সীমানায় পৌঁছেছে? নাকি এটি কেবল একটি অস্থায়ী ঝামেলার বহিঃপ্রকাশ? তৃণমূলের বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে দলের অভ্যন্তরে বড় কোনো বৈঠক হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক জটিলতাগুলোর আবহে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলের ভোটব্যাঙ্ক ও ভাবমূর্তির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy