অবশেষে খুলছে জট! ১২১০ শূন্যপদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু, শিক্ষক নিয়োগে উদ্যোগী রাজ্য

গত বছর মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট বাংলার লক্ষাধিক ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দেওয়ার পর থেকে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কেটেছে বলে মনে হচ্ছে। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশ মেনে ওবিসিদের নতুন তালিকা তৈরি হওয়ায় রাজ্য সরকার এবার বাংলার সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তোরজোড় শুরু করে দিয়েছে নবান্ন।

ওবিসি তালিকা চূড়ান্ত, নিয়োগের পথ প্রশস্ত
সম্প্রতি অনগ্রসর সম্প্রদায় উন্নয়ন কমিশনের পক্ষ থেকে বাংলায় কোন কোন জনগোষ্ঠী ওবিসির স্বীকৃতি পাবে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এর পরপরই জানা যাচ্ছে, রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে সরকার।

ওবিসি বিষয়ক জটিলতার কারণে বহু বছর ধরে সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ থমকে ছিল। তবে এবার সেই জট খানিকটা খুলেছে বলে মনে করছে রাজ্য। জানা গেছে, অনগ্রসর সম্প্রদায় উন্নয়ন কমিশনের প্রকাশ করা নতুন তালিকার ভিত্তিতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোনোর কথা ভাবা হয়েছে।

সূত্র মারফৎ খবর, ওবিসি জটিলতার কারণে বাংলার ১৪৯টি সরকারি বিদ্যালয়ে ১২১০টি শূন্যপদে নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। বহু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, আবার অনেক স্কুলে বহু বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য। এই শূন্যপদগুলো পূরণের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (PSC) জানিয়েছে। শীঘ্রই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে ৪১টি বিদ্যালয়ে ৩৬ জন প্রধান শিক্ষক ও ২ জন প্রধান শিক্ষিকার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে সূত্র মারফৎ জানা গেছে। বাকি শূন্যপদগুলোতেও দ্রুত নিয়োগ করা হবে বলে খবর।

এছাড়াও, ওবিসি সংক্রান্ত জটিলতার জেরে এতদিন সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়াও থমকে ছিল। নতুন তালিকা অনুযায়ী সেই ভর্তি প্রক্রিয়াও দ্রুত চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ওবিসি ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে বাংলা উত্তাল ছিল। সম্প্রতি নতুন তালিকা সামনে আসার পরেও এই বিষয়টি নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের এই নিয়োগের উদ্যোগ শিক্ষা মহলে আশার আলো দেখাচ্ছে। এই পদক্ষেপ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন গতি আনবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy