“অপারেশন সিঁদুর স্থগিত, বন্ধ হয়নি”- লোকসভায় কড়া বার্তা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর

“অপারেশন সিঁদুর” স্থগিত থাকলেও তা বন্ধ হয়নি, সোমবার লোকসভায় এই দাবি করে দেশের সামরিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতের পদক্ষেপ সম্পর্কে কড়া বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্য পূরণ হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারতের সামরিক শক্তির পরিচয় পেয়েছে। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, পাকিস্তান যদি ভারতকে নিশানা করে, তবে “অপারেশন সিঁদুরের” মাধ্যমেই সেনাবাহিনী আবারও কড়া জবাব দেবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, এই অভিযান বন্ধ করার জন্য দেশের সামরিক বাহিনীকে কেউ চাপ দেয়নি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এভাবে নাম না করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই ঘুরপথে বার্তা দিয়েছেন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। ট্রাম্প এর আগে বারবার দাবি করেছিলেন যে, তিনি ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাত থামিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। রাজনাথ সিং আজ সেই দাবির কোনো নির্দিষ্ট উল্লেখ না করে বলেন, চাপের মুখে ভারত “অপারেশন সিঁদুর” বন্ধ করেছে বলে যে দাবি উঠেছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি আরও যোগ করেন যে, পাকিস্তানের ডিজিএমও (Director General of Military Operations) ভারতের ডিজিএমও-কে ফোন করে সংঘর্ষ বিরতির অনুরোধ জানিয়েছিলেন এবং সেই মতো দু’দেশ সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি হয়েছে।

লোকসভায় এদিন “অপারেশন সিঁদুর” নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শাসক দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের সাংসদরাও এই চর্চায় অংশ নেন। কংগ্রেসের গৌরব গগৈ এবং তৃণমূলের শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। বিশেষ করে বৈসরণ উপত্যকার পহেলগাওঁয়ে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবকেই বিরোধী শিবির দায়ী করে।

পাল্টা জবাবে রাজনাথ সিং দেশের সেনাবাহিনীর প্রশংসা করার পাশাপাশি বিরোধীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তাকে বলতে শোনা যায়, “অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিরোধীরা শুধু ভারতের কোনো যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে কিনা সেটা জানতে চায়। শত্রুপক্ষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।” তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, “অপারেশন সিঁদুর” পর্বে ভারতের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে লক্ষ্য ভারতের ছিল, তা সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।

সামরিক অভিযান চালানোর আগে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল, সে বিষয়েও প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী অভিযান চালাবার আগে সীমান্তের সামগ্রিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার কথায়, “মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে জঙ্গিদের সাতটি ঘাঁটি আমরা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। আঘাত হানার আগে আমাদের বাহিনীর তরফে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে, যাতে সাধারণ নাগরিকদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি না করে শুধুই জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালানো যায় তা নিশ্চিত করা হয়েছে।” এই মন্তব্যগুলো অপারেশন সিঁদুরের কার্যকারিতা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব তুলে ধরে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy