“অপারেশন সিঁদুর নিয়ে দুনিয়ার সমর্থন পেয়েছি, কংগ্রেসের পাইনি”-জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সফল ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে যখন দেশজুড়ে উৎসবের মেজাজ, তখন মঙ্গলবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের তীব্র ভর্ৎসনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, যেখানে সমগ্র বিশ্ব ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেখানে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই সঙ্কটকালেও রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় ঐক্যের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে স্পষ্ট যে, অপারেশন সিঁদুরকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তার সাফল্যের পাশাপাশি আগামী ২০২৫ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক জমি শক্ত করার কৌশলও কাজ করছে।

সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা: প্রধানমন্ত্রীর সাহসী সিদ্ধান্ত
প্রধানমন্ত্রী জানান, পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ হামলার পরপরই তিনি বিদেশ সফর বাতিল করে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। সেই সময় তিনি যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন, তার ফলেই অপারেশন সিঁদুরের মতো সফল অভিযান সম্ভব হয়। মোদী বলেন, “সেনাকে বলেছিলাম, কোথা থেকে, কীভাবে জবাব দেবে, তা তোমরাই ঠিক করো।” এই নির্দেশের পরই ভারতীয় সেনারা ৬ ও ৭ তারিখে ‘সঠিক সময়ে সঠিক জবাব’ দেয়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভারত যখন আঘাত হেনেছে, তখন পাকিস্তান পাল্টা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

জাতীয় ঐক্যের ওপর আঘাত এবং ভারতের প্রতিরোধ
পহেলগাঁও হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পহেলগাঁও কাণ্ডে ধর্ম দেখে দেখে জঙ্গিরা হত্যা চালিয়েছে। ভারতের ঐক্য নষ্ট করার অপচেষ্টা ছিল।” তবে তিনি গর্বের সাথে জানান, এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের জবাবে ভারতীয়রা একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং দেশের ঐক্য বিনষ্ট করার অপচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।

‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ অস্ত্রের পরাক্রম: পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটি আইসিইউতে
অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ অস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মেড ইন ইন্ডিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পাকিস্তানকে চূর্ণ করে দিয়েছে। পাক বিমান ঘাঁটি আজ আইসিইউতে।” একই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মাস্টারমাইন্ডদের জানিয়ে দিয়েছি, ভারত আসবে, মারবে, এবং ফিরে যাবে।” এই বাক্যটি দেশের নিরাপত্তা নীতিতে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের পরিচয় বহন করছে।

কংগ্রেসের প্রতি সরাসরি নিশানা: ‘আয়না ধরতেই এসেছি’
এদিন প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “ভারতের পক্ষে কথা বলার জন্য আমি এসেছি। যারা ভারতের পক্ষ দেখতে পায় না, তাদের সামনে আয়না ধরতেই এসেছি।” মোদীর অভিযোগ, কংগ্রেসের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়েও দেশের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাজনৈতিক বিভেদ তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই লোকসভার বক্তব্য কেবল অপারেশন সিঁদুরের সামরিক সাফল্য ঘোষণা নয়, বরং আগামী নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তিতে আঘাত হানার একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক চাল। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের দৃঢ়তা তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বিরোধীদের ‘দেশবিরোধী’ তকমা দেওয়ার এই কৌশল আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy