অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলাপে কড়া নিয়ম! পরিবারের আয় থেকে স্কুলের তথ্য—কী কী লাগছে জানেন?

রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার কাউন্টডাউন। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, রাজ্যের মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা অনুদান প্রদানের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে তিনি এই প্রকল্পের বিস্তারিত গাইডলাইন ও ফর্ম প্রকাশ করেন। লক্ষ্মীর ভান্ডারের উপভোক্তারা তো বটেই, পাশাপাশি নতুনরাও এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও তথ্যবহুল রাখা হয়েছে।

অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন ফর্মটি মোট ১২ পাতার। সরকারি অনুদানের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার আবেদনকারীদের কাছ থেকে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। ফর্মের ৯ নম্বর পাতায় ‘সামাজিক মর্যাদা এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গ’ অংশে শিশুদের সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীকে জানাতে হবে তার পরিবারে কতজন শিশু আছে, তাদের নাম, তারা কোন ক্লাসে পড়ছে এবং কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (সরকারি, বেসরকারি বা মাদ্রাসা) পড়ছে। শুধু তাই নয়, শিশুদের সঠিক টিকাকরণ হয়েছে কি না, তার প্রমাণও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।

এই প্রকল্পের ফর্ম পূরণে মহিলাদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্যের প্রয়োজন হবে। ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র হিসেবে আধার নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি (IFSC) কোড জমা দিতে হবে। রেশন কার্ডের তথ্যও ফর্মে উল্লেখ করা জরুরি। পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যবিমা থাকলে সেই সংক্রান্ত নথিও আবেদনের সাথে জুড়ে দিতে হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদনকারীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা যাচাই করার জন্য বেশ কিছু কঠোর প্রশ্ন রাখা হয়েছে। যেমন—পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা বেসরকারি চাকরি করেন কি না? পরিবারের নিজস্ব চারচাকা গাড়ি আছে কি না? আবেদনকারী কয়টি পাকা বাড়িতে থাকেন এবং তার বার্ষিক পারিবারিক আয় কত? এছাড়া তিনি ইতিমধ্যে অন্য কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তাও স্পষ্ট করতে হবে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, নাগরিকত্ব ও আইনি সংক্রান্ত তথ্যও এখানে চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীকে জানাতে হবে যে তিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) অনুযায়ী সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন কি না। পাশাপাশি, এনআরসি বা অন্যান্য ট্রাইবুনালে তার পরিবারের কোনো সদস্যের নাগরিকত্বের বিষয়টি বিচারাধীন আছে কি না, সে সম্পর্কেও সরকারিভাবে তথ্য জানাতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনা বাংলার মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি মাইলফলক। তবে বারো পাতার এই বিশাল ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে মহিলারা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে বিশেষ সাহায্যকেন্দ্র খোলার চিন্তাভাবনা চলছে। যথাযথ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমেই প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে এই প্রকল্পের সুফল পৌঁছে দেওয়া সরকারের মূল লক্ষ্য। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত রাজ্যবাসী এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy