অনুব্রতকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান? বীরভূমে বিক্ষোভের মুখে ‘কেষ্ট’, কনভয় আটকাল কারা?

বীরভূমের রাজনীতিতে তিনি শেষ কথা, কিন্তু শনিবার নিজের গড় দুবরাজপুরেই মেজাজ হারালেন দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁর কনভয় আটকে চলল বিক্ষোভ, দেওয়া হলো স্লোগানও। তবে এই বিক্ষোভ বিরোধীদের নয়, বরং তৃণমূলেরই একদল ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকদের। এই নজিরবিহীন ঘটনায় অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

কেন থমকাল অনুব্রতর কনভয়?

শনিবার দুবরাজপুরের জয়দেব মোড়ের কাছে আচমকাই অনুব্রত মণ্ডলের গাড়ি আটকে দেন তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। তাঁদের নিশানায় ছিলেন দুবরাজপুর ব্লকের যুগ্ম আহ্বায়ক তথা পদুমা গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি তরুণ গড়াই। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের অভিযোগ:

  • তরুণ গড়াইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ ও নিচুতলার কর্মীরা।

  • তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় পাহাড়প্রমাণ আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

  • সরকারি প্রকল্প থেকে শুরু করে নানা কাজে ‘কাটমানি’ তোলার অভিযোগ তুলে সরব হন কর্মীরা।

“ওকে সরান দাদা”, অপ্রস্তুত অনুব্রত

প্রায় মিনিট তিনেক অনুব্রত মণ্ডলের গাড়ি ঘিরে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। গাড়ির উইন্ডোস্ক্রিনের সামনে দাঁড়িয়ে কর্মীরা সমস্বরে দাবি তোলেন— “তরুণ গড়াই চলবে না”। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দৃশ্যতই অপ্রস্তুত দেখায় কেষ্টকে। কর্মীরা তাঁর হাতে একটি লিখিত অভিযোগপত্রও তুলে দেন।

অনুব্রত মণ্ডল অবশ্য শান্তভাবে কর্মীদের কথা শোনেন এবং হাত নেড়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এরপরই বিক্ষোভের সুর বদলে যায় ‘কেষ্টদা জিন্দাবাদ’ স্লোগানে। তবে এই ঘটনায় জেলা রাজনীতিতে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, অনুব্রতর উপস্থিতিতেই যদি এমন বিদ্রোহ হয়, তবে বিধানসভা ভোটের আগে গোষ্ঠীকোন্দল সামলানো তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।

বিস্ফোরক মোড়ে বীরভূম

ঘটনাটি নিয়ে অনুব্রত মণ্ডল সংবাদমাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে বীরভূমে শাসকদলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে কয়লা পাচার নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হওয়া, আর অন্যদিকে নিজের কর্মীদের ক্ষোভ— সব মিলিয়ে বীরভূমের দাপুটে নেতার ওপর চাপ বাড়ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy