সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশকারী এবং অবৈধভাবে এ দেশে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থানের সপক্ষে জোরালো আওয়াজ তুললেন এজেইউপি (AJUP) প্রধান হুমায়ুন কবীর। সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক আলোচনায় তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, যারা সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনিভাবে রাজ্যে প্রবেশ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই।” তাঁর মতে, দেশের অখণ্ড নিরাপত্তা এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অটুট রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ বর্তমানে সময়ের দাবি। পুলিশ প্রশাসনকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যারা আইন ভেঙে সীমান্ত অতিক্রম করছে, তাদের যেন কোনোভাবেই ছাড় না দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অনুপ্রবেশ দীর্ঘদিনের এক জ্বলন্ত ইস্যু। মাঝে মধ্যেই অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ সামনে আসায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন এক পরিস্থিতিতে একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা হিসেবে হুমায়ুন কবীরের এই অবস্থান সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা দিল।
এজেইউপি প্রধান আরও স্পষ্ট করেন যে, তিনি কোনো অবস্থাতেই বেআইনি অনুপ্রবেশকে প্রশ্রয় দেন না। তিনি বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান। যারা নিয়ম ভেঙে দেশের ভেতরে প্রবেশ করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।” একই সঙ্গে তিনি সরকারের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, সাধারণ নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য। সেই কর্তব্য পালনে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশ মনে করছেন, এটি একটি বাস্তবসম্মত অবস্থান এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করবে। আবার অন্য একটি অংশের দাবি, অনুপ্রবেশ ইস্যু রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট সংবেদনশীল, তাই এই বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রোধে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সমন্বিত প্রয়াস চলছে। বিএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। প্রযুক্তিগত নজরদারি বৃদ্ধি, চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো এবং নিয়মিত টহলদারি নিশ্চিত করার মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। হুমায়ুন কবীরের এই সমর্থন প্রশাসনিক নজরদারিকে আরও নৈতিক বল জোগাবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





