কলকাতা পুরসভার অন্দরমহলে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। দীর্ঘদিনের প্রথা মেনে পুরসভার মাসিক অধিবেশন বসার কথা ছিল মূল অধিবেশন কক্ষে। কিন্তু শুক্রবার সেই কক্ষ খোলা না থাকায় বাধ্য হয়ে কাউন্সিলরদের ক্লাব রুমে বসেই জরুরি বৈঠক করতে হলো কাউন্সিলরদের। এই ঘটনাকে ‘চরম অপমান’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে সরব হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।
ঠিক কী ঘটেছে? নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি মাসের নির্দিষ্ট দিনে পুরসভায় মাসিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এদিন কাউন্সিলররা পুরসভায় পৌঁছালে দেখেন, অধিবেশন কক্ষের দরজা তালাবন্ধ। কেন এমনটা হলো, তা নিয়ে সৃষ্টি হয় ধোঁয়াশা। কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই এমন পরিস্থিতিতে কাউন্সিলরদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে সময় নষ্ট না করে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাউন্সিলরদের ক্লাবরুমে অধিবেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফিরহাদ হাকিমের প্রতিক্রিয়া: পুরসভার এই প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এটা পুরসভার ইতিহাসে চরম অপমানজনক একটি ঘটনা। কেন অধিবেশন কক্ষ বন্ধ রাখা হলো, তার কোনো সদুত্তর নেই। গণতান্ত্রিক কাঠামোয় এভাবে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক: কলকাতা পুরসভার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অধিবেশন কক্ষ কেন খোলা হলো না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটি কি কোনো প্রশাসনিক গাফিলতি নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। আপাতত পুরো বিষয়টি নিয়ে পুর প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।
এই ঘটনাটি নিয়ে আপনার কি মনে হয়, এটি কি নিছকই কোনো প্রশাসনিক ভুল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য থাকতে পারে?





