প্রতিটি সম্পর্কেই সততা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। যুগলরা প্রায়ই নিজেদের ভাবনা, মত, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে একে অপরকে বলতে ভালোবাসেন। এমন অনেকেই আছেন, যারা সঙ্গীকে সবকিছু শেয়ার না করা পর্যন্ত শান্ত থাকতে পারেন না। তবে, কিছু বিষয় আছে যা ব্যক্তিগত রাখাই উত্তম এবং প্রেমিককে শেয়ার করা উচিত নয়।
ভারতের জীবনধারা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের এক প্রতিবেদনে এমন ছয়টি বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রেমিককে ভুলেও শেয়ার করা উচিত নয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই বিষয়গুলো:
১. প্রাক্তনের প্রতি আপনার অনুভূতি:
নতুন সম্পর্কে জড়ালেও অনেক সময় প্রাক্তনকে পুরোপুরি ভোলা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমন সময় আসে যখন প্রাক্তনের সঙ্গে কাটানো মধুর স্মৃতি ভেসে ওঠে। আপনি হয়তো প্রেমিকের কাছ থেকে কিছুই লুকাতে চান না বা সাবেক সম্পর্ক নিয়ে কখনো কিছু লুকাননি, কিন্তু আপনার প্রেমিক সব সময় সাবেকদের সম্পর্কে শুনতে আগ্রহী নাও হতে পারে। যদি আপনার সাবেক প্রেমিক বর্তমান সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, তবে প্রাক্তনকে নিয়ে বর্তমান প্রেমিককে কিছু না বলাই উত্তম। এটি অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে সাহায্য করবে।
২. আপনার বর্তমান ক্রাশ:
এমন হতে পারে, বর্তমানে আপনার কাউকে বেশ আকর্ষণীয় বা আদরণীয় মনে হচ্ছে। হতে পারে সে আপনার সহকর্মী বা অন্য কেউ। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আপনি যখন-তখন তাদের নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে আলাপ করবেন। হ্যাঁ, কাউকে ভালো লাগার কথা আপনি জানাতেই পারেন, কিন্তু যদি এই ‘ক্রাশ’ আপনার মনে প্রতি মুহূর্তে আলোড়ন না তোলে এবং বর্তমান সম্পর্কে কোনো প্রভাব না ফেলে, তবে তা প্রেমিককে বলার প্রয়োজন নেই। আপনি এই অধ্যায় শেষ করে দিতে পারেন এবং প্রেমিক যাতে আপনার ওপর আস্থা না হারায়, সেদিকে নজর দিতে পারেন।
৩. আপনার সৌন্দর্যচর্চা বা প্রাত্যহিক রুটিন:
কীভাবে আপনি সৌন্দর্যচর্চা করছেন বা অলস সময় কাটাচ্ছেন, সেটি আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাই সেটি সঙ্গীকে শেয়ার করার প্রয়োজন নেই। ধরা যাক, আপনি প্রথমে ফেস প্যাক বা ক্লিনজার ব্যবহার করেন – এই ধরনের ব্যক্তিগত বিউটি রুটিন বয়ফ্রেন্ডকে জানানোর প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ, এমন যদি হয় যে প্রেমিক আপনার বিউটি রুটিন সম্পর্কে খুব আগ্রহী এবং সে নিজেই জানতে চায়, তখন আপনি বলতে পারেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনি বারবার তাকে এ নিয়ে বলে যাবেন।
৪. আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পাসওয়ার্ড:
প্রেমিক আপনাকে বিশ্বাস করতে বলতে পারে এবং পাসওয়ার্ড চাইতেই পারে। কিন্তু শুধুমাত্র মৌখিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে অন্ধভাবে তাকে পাসওয়ার্ড দেওয়ার মতো কোনো প্রমাণ আপনার কাছে নেই। ফলে সঙ্গীকে পাসওয়ার্ড দেওয়া বিনয়ের সঙ্গে এড়িয়ে যেতে পারেন। নিজের পাসওয়ার্ড ব্যক্তিগত রাখা আবশ্যক এবং এর মানে এই নয় যে আপনি প্রতারক। এটি কেবল আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়।
৫. প্রেমিকের বন্ধুদের নিয়ে আপনি যা ভাবেন:
প্রেমিকের বন্ধুবান্ধব ও তার পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানানো খুবই ভালো। কিন্তু তাদের নিয়ে ভালো-মন্দ মত প্রকাশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আপনি তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে পারেন না, আবার একইসঙ্গে সব সময় অভিযোগ করার চেষ্টাও করতে পারেন না। এর পরিবর্তে আপনি প্রেমিকের বন্ধুবান্ধবকে বুদ্ধি করে এড়িয়ে যেতে পারেন, যদি তাদের আচরণ আপনার অপছন্দ হয়। এতে আপনি সব সময় বিভিন্ন ঝামেলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।
৬. আপনাদের সম্পর্ক নিয়ে লোকের ভাবনা:
আপনাদের সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করবে, এটাই স্বাভাবিক। কেউ আপনার প্রেমিককে সমালোচনা করতে পারে। তাই লোকের বলা নেতিবাচক চিন্তাগুলো এড়িয়ে যাওয়া ভালো। কে কী বলল, তা নিয়ে অতিরিক্ত না ভেবে কীভাবে আপনারা নিজেরা সুখী থাকবেন, সে ভাবনাটা জরুরি। যদি মনে করেন আপনার প্রেমিক সম্পর্কে লোকেদের কোনো মতে আপনি লাভবান হবেন, তবে তা প্রেমিককে শেয়ার করতে পারেন। আর তা না হলে এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম, কারণ বাইরের মানুষের মতামত অনেক সময় সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করে।
এই বিষয়গুলো ব্যক্তিগত রেখে আপনি আপনার সম্পর্কের স্বাস্থ্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবেন।