আপনি কি কখনও এমন স্বপ্ন দেখেছেন যেখানে আপনি জানেন যে আপনি স্বপ্ন দেখছেন? শুধু তাই নয়, নিজের ইচ্ছামতো স্বপ্নের গল্প বা চরিত্র বদলে দিচ্ছেন? বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘লুসিড ড্রিম’ (Lucid Dream) বা স্বচ্ছ স্বপ্ন। অবচেতন মনের এই এক অদ্ভুত খেলা, যেখানে ঘুমিয়ে থেকেও মানুষের চেতনা সক্রিয় থাকে।
লুসিড ড্রিম আসলে কী?
মনোবিজ্ঞানের ওনিরোলজি (Oneirology) শাখার মতে, এটি এমন এক অবস্থা যেখানে স্বপ্নদ্রষ্টা স্বপ্নের ভেতরেই বুঝতে পারেন যে তিনি বাস্তবে ঘুমিয়ে আছেন। ১৯১৩ সালে ডাচ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ফ্রেডেরিক ভ্যান এই শব্দটির প্রবর্তন করেন। পরবর্তীতে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিফেন লা-বার্জ একে গবেষণার অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।
কেন হয় এই বিশেষ স্বপ্ন?
গবেষণা বলছে, সাধারণত ‘আরইএম’ (REM) ঘুমের সময় যখন মস্তিষ্ক অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, তখনই লুসিড ড্রিমের দেখা মেলে। তবে এর পেছনে কিছু বিশেষ কারণও থাকতে পারে:
-
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস।
-
অপর্যাপ্ত ঘুম বা ব্রেনওয়ার্ক।
-
টিনএজারদের ক্ষেত্রে পারিবারিক অস্থিরতা বা বুলিংয়ের প্রভাব।
-
বাস্তব জীবনের অমীমাংসিত কোনো দ্বন্দ্ব।
স্বপ্ন যখন আপনার হাতের মুঠোয়!
লুসিড ড্রিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো নিয়ন্ত্রণ। প্রখ্যাত গবেষক পল থলি ও ডিয়ার্দ্রে ব্যারেটের মতে, এই অবস্থায় স্বপ্নদ্রষ্টা জানেন যে শারীরিক নিয়মগুলো স্বপ্নে খাটে না। ফলে আপনি চাইলেই স্বপ্নে পাহাড় ডিঙাতে পারেন বা উড়তে পারেন। এটি কেবল বিনোদন নয়, বরং দুঃস্বপ্নকে সুন্দর স্বপ্নে রূপান্তর করে মানসিক প্রশান্তি আনতেও সাহায্য করে।
নিজের স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রণ করবেন কীভাবে? (৩টি সহজ টিপস)
জ্যোতিষ বা অলৌকিক কিছু নয়, লুসিড ড্রিমিং একটি অর্জনযোগ্য দক্ষতা। আপনিও চাইলে এটি প্র্যাকটিস করতে পারেন:
১. স্বপ্নের ডায়েরি: প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যা মনে পড়ে লিখে রাখুন। এতে অবচেতন মনের সংকেত ধরা সহজ হবে। ২. রিয়েলিটি চেক: দিনে কয়েকবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, “আমি কি এখন স্বপ্ন দেখছি?”। এই অভ্যাসটি ঘুমের মধ্যেও আপনার সচেতনতাকে জাগিয়ে তুলবে। ৩. মেডিটেশন: নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশন আপনার মনোযোগ বৃদ্ধি করে, যা স্বপ্নের ভেতরেও আপনাকে সচেতন থাকতে সাহায্য করবে।