মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আদর্শ খাবার, সেই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ১ থেকে ৭ আগস্ট বিশ্বব্যাপী মাতৃদুগ্ধ দিবস বা ব্রেস্টফিডিং উইক পালিত হয়। ওয়ার্ল্ড ব্রেস্টফিডিং ট্রেন্ডস ইনিশিয়েটিভ (WBTi) কর্তৃক এ বছর বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ছিল—‘প্রটেক্ট ব্রেস্টফিডিং, এ শেয়ারড রেসপনসিবিলিটি।’
👶 শিশুর স্বাস্থ্যে মাতৃদুগ্ধের অলৌকিক ভূমিকা
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের বুকের দুধ নবজাতকের জন্য আদর্শ পুষ্টিকর খাবার। এর উপকারিতাগুলি নিম্নরূপ:
-
সংক্রামক ব্যাধি হ্রাস: মায়ের দুধে প্রায় ২০০ উপাদান আছে, যা অন্য কোনো ফর্মুলা দুধে নেই। এটি সংক্রামক ব্যাধির আক্রমণ অনেক কমিয়ে দেয়।
-
কম মৃত্যুহার: গবেষণায় দেখা গেছে, জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হলে নবজাতক মৃত্যুর হার ২২ শতাংশ কমানো সম্ভব।
-
পুষ্টি ও বিকাশ: মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে পরিপূর্ণভাবে।
-
অ্যালার্জি থেকে মুক্তি: যেসব শিশুরা বুকের দুধ খায় তারা বিশেষ করে অ্যালার্জি, পেটের সমস্যা এবং কানে সংক্রমণের মতো সমস্যায় কম পড়ে।
-
ফুসফুস ও অ্যাজমা: মায়ের দুধ সরাসরি পান করার মধ্য দিয়ে শিশুর ফুসফুসও শক্তিশালী হয়। কানাডিয়ান এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা থেকে জানা গেছে, মায়ের দুধ পান করলে শিশুর অ্যাজমার ঝুঁকি কমে ৪০ ভাগ। প্রতি ফোঁটা দুধই হাঁপানি রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: জন্মের প্রথম ৬ মাস শিশুকে মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্যকিছু খাওয়ানোর প্রয়োজন হয় না। এ সময়ে মায়ের দুধ শিশুর সব চাহিদা পূরণ করে।
👩🦳 মায়ের শরীরে উপকারিতা
সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের শরীরেরও অনেক উপকার ঘটে, যা প্রসব পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
-
১. জরায়ুর পুনরুদ্ধার: বুকের দুধ খাওয়ানো গর্ভকালীন ধকল থেকে মায়ের জরায়ুকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
-
২. রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ: এটি প্রসব পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তপাতকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে।
-
৩. ক্যানসার প্রতিরোধ: সন্তানকে দুধ খাওয়ালে মায়ের কিছু ধরনের ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এটি জরায়ুর ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
-
৪. ওজন হ্রাস: বুকের দুধ খাওয়ানো প্রসব পরবর্তী সময়ে মায়ের ওজন কমাতে সাহায্য করে।
-
৫. মানসিক সংযোগ: বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের সঙ্গে শিশুর মানসিক সংযুক্তি (Bonding) বাড়ে এবং মায়ের মধ্যে ইতিবাচক বোধ তৈরি হয়।
-
৬. শারীরিক পুনরুদ্ধার: এটি প্রসব পরবর্তী জটিলতা থেকে মায়ের শরীরকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
-
৭. ঋতুস্রাব ঠিক রাখা: ঋতুস্রাবের চক্রকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে।