আজকাল আমরা সম্পর্কের যত্ন নিতে ভুলে যাচ্ছি। চোখের সামনে যাঁর মুখটি সবসময় দেখা যায়, তাঁর চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিই সেইসব মানুষকে, যাঁরা আমাদের ভার্চুয়াল জগতের বন্ধু। অনলাইনে হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাটিং চলছে, কিন্তু পাশে থাকা মানুষটির দিকে ফিরে তাকানোর সময় আমাদের নেই।
পৃথিবী নিঃসন্দেহে অনেক এগিয়েছে। অথচ সম্পর্ক সুন্দর থাকার বদলে দিন দিন যেন ভাঙনের সুর আরও বেশি বাজছে! পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনজনেরাই যে আমাদের অগ্রাধিকার, সেই কথা আমরা ভুলে যাচ্ছি। খুব স্বাভাবিকভাবেই যত্নের অভাবে বাড়ছে না ভালোবাসার চারাগাছ। অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে একেকটি সম্ভাবনাময় সম্পর্ক।
দিনের বেলা আমরা নানা কাজে ব্যস্ত থাকি, রাতের সময়টুকু থাকে পরিবার-পরিজনের জন্য। সেখানেও যদি চলে আসে উদাসীনতা বা অবহেলা, তবে আর সম্পর্ক সুন্দর থাকবে কী করে! আমাদের প্রতিদিনের কিছু ছোট ছোট কাজই সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে। আমরা হয়তো বুঝতেও পারি না, একদিন হঠাৎ দেখতে পাই যে আমরা ভালোবাসা, ভালো থাকা থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে। তখন হয়তো আর ফিরে আসার সুযোগ থাকে না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় এই কাজগুলো যদি করে থাকেন, তবে আজই তা বাদ দিন। নয়তো আপনাদের সম্পর্কে ভাঙন ধরানোর জন্য এই কাজগুলোই যথেষ্ট-
দুজনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় না রাখা: দুজন দুই জায়গা থেকে সারাদিন পর যখন বাড়ি ফেরেন, খুব স্বাভাবিকভাবেই মনে হওয়া উচিত যে দুজনে একটু একসঙ্গে সময় কাটানো যাক। কিন্তু যদি তা না হয়, আপনি যদি সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর আগ্রহ বোধ না করেন, তবে সতর্ক হোন। কারণ এভাবে দিনের পর দিন চলতে থাকা স্বাভাবিক নয়। একটি সম্পর্ক যখন আপনারা বয়ে বেড়াচ্ছেন, তাহলে সেটি সর্বোচ্চ সুন্দর কেন করবেন না! সম্পর্ক মানেই নিজের পাশাপাশি অপরজনের প্রতিও যত্নশীল হওয়া। শুধু ভরণপোষণ কিংবা রান্না করে খাওয়ানোই দায়িত্বের শেষ কথা নয়। তাঁকে ভালোবেসে আগলে রাখা, তাঁর প্রতি আপনার টান কতটা সেই কথা জানান দেওয়াটাও এর ভেতরেই পড়ে। রাতে খাবারের টেবিলে আপনারা মন খুলে গল্প করতে পারেন। সারাদিনের ঘটে যাওয়া ছোটখাটো ঘটনাগুলো নিয়ে আলাপ করতে পারেন। শেয়ারিং থাকলে কেয়ারিংও চলে আসবে!
শারীরিক চাহিদা উপেক্ষা করা: ভালোবাসার বন্ধনকে আরও গাঢ় করে পারস্পরিক শারীরিক আকর্ষণ। যদি আপনাদের দুজনের সেই আকর্ষণ কাজ না করে তবে সেটি স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। এরকম কোনো কোনো দিন হতে পারে, তবে দিনের পর দিন চলতে পারে না। সেটি তখন শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার পর্যায়ে চলে যায়। এমন সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। এই অনাগ্রহের কারণ সম্পর্কে জেনে সমাধান খুঁজুন। নয়তো এই ধরনের সম্পর্ক যতই ধরে রাখতে চান, একটা সময় ভেঙে যেতে বাধ্য।
ঝগড়া মিটিয়ে না ফেলা: সম্পর্ক থাকলে ঝগড়াও থাকবে। ঝগড়া ছাড়া কোনো সম্পর্ক হয় না। ঝগড়া করার পাশাপাশি সেটি মিটিয়েও ফেলতে হবে। কারণ ঝগড়াকে বাড়তে দিলে সেটি ডালপালা ছড়িয়ে আপনাদের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলবে। সারাদিন পর হয়তো ঘুমের আগেই কোনো কিছু নিয়ে ঝগড়া বেঁধে গেল। সেটি ঘুমিয়ে পড়ার আগেই মিটিয়ে ফেলুন। তাহলে আপনারা একসঙ্গে আরও একটি সুন্দর সকাল দেখতে পাবেন। কোনো কিছু নিয়ে অভিযোগ থাকলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে শান্তভাবে আলোচনা করুন, সমাধান খুঁজে তবেই ঘুমাতে যান।
ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার: ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলোর জন্য কাছের মানুষকে দূরে ঠেলার কোনো অর্থ নেই। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে দাম্পত্য সম্পর্কে। আপনি যদি ঘুমের আগে সঙ্গীর প্রতি মনোযোগ না দিয়ে ফোনেই স্ক্রোল করতে থাকেন তবে একটি সুন্দর সম্পর্ক কীভাবে আশা করেন? এটি সম্পর্কে তো ফাটল ধরায়ই, সেইসঙ্গে ফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন আপনার শরীরেরও ক্ষতি করে। ঘুমের আগে ফোন ব্যবহারের বদলে ভালো কোনো বই পড়তে পারেন, সঙ্গী আর আপনি মিলে গল্প করেও সময় কাটাতে পারেন।