স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে নগ্ন হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস নতুন নয়। এতদিন ধরে মনে করা হত যে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণা রিপোর্টে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে, যা অনেকের প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিতে পারে। গবেষকদের মতে, রাতে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য কিছু ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আসুন, জেনে নিই বিবস্ত্র হয়ে ঘুমালে কী কী সমস্যা হতে পারে।
১. ত্বকের ক্ষতি:
নগ্ন হয়ে ঘুমালে মোটা কাপড়ের বিছানার চাদরের সঙ্গে ত্বকের সরাসরি ঘষা লাগে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এর থেকে ত্বকে র্যাশ বা জ্বালা হতে পারে। তাই, নরম এবং হালকা কাপড়ের নাইট-স্যুট পরে ঘুমানোই ভালো।
২. ঘাম শোষণের সমস্যা:
অনেকেই ঘুমের মধ্যে প্রচুর ঘামেন। পোশাকহীন অবস্থায় ঘাম সরাসরি শরীরে বসে যায়, যা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। হালকা কাপড়ের নাইট-ড্রেস এই ঘাম শুষে নেয় এবং শরীরকে শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে।
৩. আকর্ষণে প্রভাব:
দাম্পত্য জীবনে উন্মুক্তভাবে ঘুমানোর অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে আকর্ষণ কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা গোপনীয়তা এবং রহস্য বজায় রাখা সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।
৪. আকস্মিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি:
রাতে হঠাৎ ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড বা কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ঘর থেকে বের হতে হয়। এমন অবস্থায় পোশাক পরার সময় না-ও পাওয়া যেতে পারে। বিবস্ত্র অবস্থায় জনসমক্ষে এলে লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
৫. প্রতিবেশীর সঙ্গে বিব্রতকর পরিস্থিতি:
রাতে কোনো জরুরি প্রয়োজনে প্রতিবেশী এসে দরজায় নক করলে বিবস্ত্র অবস্থায় দরজা খোলা খুবই বিব্রতকর হতে পারে। এটি কেবল আপনার জন্যই নয়, প্রতিবেশীর জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।
৬. ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হলে:
যদি কোনো ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে মারা যান, তবে বিবস্ত্র অবস্থায় তার মৃতদেহ পরিবারের জন্য আরও বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে বিভিন্ন ভুল ধারণারও জন্ম হতে পারে।
গবেষকদের এই নতুন তথ্যগুলো আমাদের রাতের অভ্যাসের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। পরিশেষে, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রাতে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরে ঘুমানোর অভ্যাসই বেশি যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করা হচ্ছে।