ফেলে দেওয়া ফলের খোসাতেও লুকিয়ে পুষ্টির ভাণ্ডার! জানুন কোন খোসায় কী গুণ

ফল যে কোনো বয়সের মানুষের জন্য এক অসাধারণ সহজপাচ্য এবং উপকারী খাদ্য, তা প্রায় সকলেই জানেন। কিন্তু ফল খাওয়া হয়ে গেলে আমরা তার খোসা ফেলে দিই। অবাক করা বিষয় হলো, এই ফেলে দেওয়া ফলের খোসার ভেতরেই লুকিয়ে আছে অসাধারণ সব পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা। আজকের প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন রোজকার ব্যবহৃত কয়েকটি ফলের খোসার অবাক করা গুণাগুণ, যা জানলে হয়তো আর কখনও সেগুলোকে ফেলে দিতে চাইবেন না!

১. কলার খোসা: দাঁত সাদা করা থেকে স্ক্রাবার
কলা যেমন উপকারী, তেমনই এর খোসাও নানা উপকারে আসে। দাঁতে হালকা হলুদ ছোপ লেগে আছে, দু’বেলা দাঁত মেজেও যাচ্ছে না? চিন্তা নেই! নিয়ম করে কলার খোসার ভেতরের অংশ দিয়ে দাঁতগুলোর উপর হালকা করে ঘষে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে দাঁতের হলুদ ছোপ উঠে যাবে এবং দাঁত ঝকঝকে হয়ে উঠবে। এছাড়াও, কলার খোসা ত্বকের জন্য খুব ভালো স্ক্রাবারের কাজ করে, যা ত্বককে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল করে তোলে।

২. শসার খোসা: হাড় ও চোখের যত্নে
শসার খোসায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন কে। ভিটামিন কে আমাদের হাড়কে মজবুত রাখতে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও, শসার খোসায় থাকা বিটা ক্যারোটিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। তাই শসা খাওয়ার সময় খোসা না ছাড়িয়ে খাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. কিউইয়ের খোসা: ফলের চেয়েও বেশি পুষ্টিগুণ!
কিউই ফল স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ, কিন্তু জানেন কি, কিউই ফলের থেকে এর খোসাতেই বেশি পুষ্টিগুণ থাকে? কিউইয়ের খোসার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি। এই পুষ্টি উপাদানগুলি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের খেয়াল রাখে। তাই, কিউই ফল ধুয়ে খোসাসমেত খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।

৪. আপেলের খোসা: ত্বক, চোখ ও হাড়ের সুরক্ষায়
সাধারণত আপেল অনেকেই খোসাসমেত খেয়ে থাকেন, যা খুব ভালো অভ্যাস। আপেলের খোসায় প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেলের মতো প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্টস থাকে। আপেলের খোসায় থাকা ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি ত্বক ও চোখের যত্ন নেয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া, এর মধ্যে উপস্থিত আয়রন ও ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁতকে মজবুত করতে সাহায্য করে।

৫. আনারসের খোসা: ঠান্ডা কমাতেও স্ক্রাবার হিসেবে
আনারসের খোসাতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন আর মিনারেলস থাকে। ঠান্ডা লাগলে ঘরোয়া উপশম হিসেবে আনারসের খোসা ব্যবহার করা যায়। আনারসের খোসা ফুটিয়ে সেই জল পান করলে ঠান্ডা লাগা থেকে কিছুটা আরাম পাওয়া যায়। এছাড়াও, ত্বক পরিষ্কার করতে প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবেও আনারসের খোসা ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬. আঙুরের খোসা: ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হজমে সহায়ক
আঙুরের খোসা ওজন কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করে। এটি শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক ক্রিয়ার হার বাড়াতে সাহায্য করে, যা ক্যালোরি পোড়ানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া, খাবার হজম করতেও আঙুরের খোসার জুড়ি মেলা ভার, এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে মসৃণ রাখে।

সুতরাং, এবার থেকে ফল খাওয়ার আগে খোসা ফেলে দেওয়ার আগে দু’বার ভাবুন। এই সাধারণ খোসাগুলিতে লুকিয়ে রয়েছে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অসাধারণ সব সুবিধা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy