বয়স পঁচিশ পেরোতেই ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়স থেকেই ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন হ্রাস পেতে শুরু করে, যার ফলে ত্বক পাতলা হতে থাকে এবং স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। তবে সঠিক পরিচর্যা এবং তিনটি মূল উপাদান ব্যবহার করে ত্বকের বয়সের ছাপ কমানো সম্ভব বলে জানাচ্ছেন রূপ বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্কিন স্পিরিট’য়ের নন্দনতত্ত্ব-বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ও নিবন্ধিত সেবিকা মিন্ডি সিম্পসন ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “বয়স বিশের পর থেকে ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনের হার হ্রাস পেতে থাকে। ফলে কমতে থাকে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা, ত্বক হারাতে থাকে তারুণ্য।” তিনি বয়সের ছাপ কমাতে মৌলিক ‘অ্যান্টি এইজিং’ প্রসাধনীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন: রাতে রেটিনল, সকালে ভিটামিন সি এবং সানস্ক্রিনের নিয়মিত ব্যবহার।
তারুণ্য ধরে রাখার তিন জাদুকরী উপাদান:
রেটিনল (Retinol): ভিটামিন এ থেকে উৎপন্ন এই উপাদানটি ত্বকে কোলাজেনের নিঃসরণ বাড়াতে এবং নতুন কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। এটি রাতে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভিটামিন সি (Vitamin C): এটি একটি প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে এটি উন্মুক্ত রেডিকেলের (free radicals) কারণে হওয়া ক্ষয় থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। সকালে ভিটামিন সি ব্যবহারের পর সানস্ক্রিন প্রয়োগ করলে ত্বক বাড়তি সুরক্ষা পায়।
সানস্ক্রিন (Sunscreen): ত্বকের যত্নে সানস্ক্রিনের ব্যবহার নিয়ে কোনো দ্বিধা থাকা উচিত নয়। এটি প্রতিদিন ব্যবহার করা অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার প্রায় ৯৫ শতাংশ কারণই সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির উপর নির্ভরশীল। তাই ত্বককে সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষিত রাখা খুবই জরুরি।
মৌলিক এই তিনটি উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করার পাশাপাশি, দৈনিক পরিচর্যার পরে ত্বকের বাড়তি যত্নের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পরের ধাপের প্রসাধনী, ‘ট্রিটমেন্ট’ এবং পদ্ধতি অনুসরণ করার কথাও বিশেষজ্ঞরা বলছেন। এই সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে পঁচিশের পরেও ত্বকের তারুণ্য এবং উজ্জ্বলতা ধরে রাখা সম্ভব।