নতুন মা হওয়ার পর অনেক সময়েই মায়েরা নিজের শরীর ও খাওয়া দাওয়ার প্রতি যত্ন নিতে ভুলে যান, যা শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবজাতকের কথা মাথায় রেখে মায়েদের কিছু নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, বিশেষ করে মাতৃদুগ্ধ পান করানোর প্রথম কয়েক সপ্তাহ। মায়ের খাদ্যাভ্যাস শিশুর হজম ও স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাই এই বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
শিশুর স্বাস্থ্যের কথা ভেবে যে খাবারগুলি এড়িয়ে চলবেন:
১. গ্যাস বা অ্যাসিডিটি সৃষ্টিকারী খাবার: যেসব খাবারে গ্যাস বা অ্যাসিডিটি হয়, নতুন মায়েদের সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। এই ধরনের খাবার খেলে মায়ের হজমে সমস্যা হতে পারে এবং তার প্রভাব শিশুর উপরও পড়তে পারে, যার ফলে শিশু অস্বস্তি বোধ করতে পারে।
২. কফি ও উচ্চ ক্যাফেইন যুক্ত পানীয়: কফিতে উচ্চ মাত্রায় ক্যাফেইন থাকে, যা শিশুর হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং তাদের অস্থির করে তুলতে পারে। ক্যাফেইন শিশুর ঘুমের প্যাটার্নকেও প্রভাবিত করতে পারে। এজন্য কফির পরিবর্তে অন্য কোনো পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে, যা ক্যাফেইনমুক্ত।
৩. অ্যাসিডিক খাবার: যেসব খাবার অ্যাসিডিটি সৃষ্টি করে, যেমন – বেশি টক ফল বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার, সেগুলো শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই ধরনের খাবার খেলে শিশুদের ঘন ঘন ডায়াপার পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে এবং স্কিন র্যাশ দেখা দিতে পারে।
৪. ফুলকপি, বাঁধাকপি জাতীয় সবজি: ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, মটরশুঁটি, এবং শিমের মতো কিছু সবজি খেলে গ্যাস হতে পারে। এই ধরনের খাবার এড়িয়ে যাওয়া আপনার শিশুর পেটে গ্যাস তৈরি হওয়া থেকে রক্ষা করবে এবং তাদের আরামদাজন রাখবে, এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
৫. অ্যালকোহল: নতুন মা হওয়ার পর অ্যালকোহল এড়িয়ে যাওয়া শুধুমাত্র শিশুর জন্যই নয়, মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। অ্যালকোহল মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা শিশুর মস্তিষ্ক ও শারীরিক বিকাশে বাধা দিতে পারে। যদি একান্তই অ্যালকোহল পান করতে হয়, তবে তা ব্রেস্টফিডিং করানোর অনেক পরে পান করা উচিত, যাতে অ্যালকোহল শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। তবে, যতটা সম্ভব অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য নতুন মায়েদের এই বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। সঠিক খাদ্যাভ্যাস নবজাতকের সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।